রাজধানী ঢাকার বুধবার (একদিন পরেই ১৬ই ডিসেম্বর) যানজট সম্পর্কে কমবেশি সবারই ধারনা ছিল। সেই ধারণাকে নিয়েই বাসে উঠলাম। সদরঘাটে আমাদের জন্য যে লঞ্চটাকে রশি বেঁধে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে, সেটা সন্ধ্যা ৭টার পর অপেক্ষা করবে না। আমরা পৌঁছাতে পারব কি না সন্দেহ আছে।
আমরা লঞ্চে পা রাখা মাত্র লঞ্চের হুইসেল বেজে উঠল।
পরিকল্পনাটা হুট করেই নেওয়া। তিন রাত আর দুই দিনের জন্য রাজধানী ছাড়ব। ছুটব কোনো এক নিরিবিলি জায়গায়, যেখানে বুক ভরে ছেড়ে নিশ্বাস নেওয়া যায়।
গন্তব্য ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরা দ্বীপ। যে লঞ্চটায় উঠলাম, তার বর্ণনা আগে একটু দেওয়া যাক। ৩ তলা লঞ্চের ওপরে বেশির ভাগটাই কেবিন। নিচের পুরোটাই ডেক। পেছনের একটি কেবিন আপাতত আমাদের দখলে।
নদীতে নামল রাত
লঞ্চে সন্ধ্যা নামা দেখতে ভালো লাগে। চারপাশটা আস্তেধীরে অন্ধকারে ঢেকে যায়।
চাঁদের আলোয় বসে থাকি লঞ্চের বারান্দায়। গল্প জমে। সঙ্গে ধোঁয়া ওঠা চা। বলে রাখা ভালো, লঞ্চে চা-কফি থেকে শুরু করে রাতের খাবার সবই পাওয়া যায়। বললে কেবিনেও পৌঁছে দিয়ে যায় কেবিন বয়। কিন্তু চা ছাড়া এই যাত্রায় আমাদের লঞ্চের খুব বেশি খাবার খেতে হয়নি।
বাসা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মু. মিকদাত ভাই লঞ্চে আমাদের জন্য খাবার দিলেন। রাত ১০টার দিকে খাবার সেরে নিলাম। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এ ভ্রমণ। লঞ্চের মধ্যে মধ্যরাতে বেশ শীত। ভাগ্য ভালো যে শীতের পোশাক নিয়েছিলাম ব্যাগে।
লঞ্চ ছুটে চলেছে মেঘনা নদী হয়ে। নদীতে ছোট ছোট মাছ ধরার নৌকা। প্রতিটি নৌকাতে আলো জ্বলছে। দূর থেকে মনে হয় নদীজুড়ে জোনাকি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কী যে অপূর্ব সেই দৃশ্য। ভোলা সদর ঘাটে যখন থামে, তখন ভোর।
হালকা কুয়াশা পড়া সকালে ভোলা সদর লঞ্চ টার্মিনালে। ভাঙ্গা-চোড়া বাসে করে চরফ্যাশন আসতে মোটামুটি ৩.৩০ ঘন্টা।
দু'টি মোটরসাইকেল গল্পে গল্পে ততক্ষণে গাড়িটি চরফ্যাশন খামার বাড়ী পৌছে গেলো। খামার বাড়ী’র ভেতরে গ্রুপভিত্তিক ছবি তোলতে শুরু।
চরফ্যাশন বাজারের খ্যাতিমান রেস্টুরেন্ট এ মানসম্মত খাবার শেষে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ জ্যাকব টাওয়ার দর্শন।
ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সৌন্দর্যের ছোঁয়াময় এ’ টাওয়ার থেকে- শিশু পার্ক, বেতুয়া নদী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যরূপের আনন্দ উপভোগ করে একত্রিত হয়ে ছবি আর ছবি। চরফ্যাশন লঞ্চ টার্মিনাল থেকে মনপুরার উদ্দেশ্যে যাত্রা।
লঞ্চ মনপুরা ঘাটে ভেড়ে। আমরা নেমে যাই। বাহন মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা।
মনপুরা দ্বীপের ভেতরের রাস্তাগুলো বেশ সুন্দর। দুই পাশে গাছপালা। রাস্তার কোল ঘেঁষে পুকুর। মাটির একটা অদ্ভুত গন্ধ। লোকালয় পার হলেই নদী। নদীর কোল ঘেঁষে গড়া। জায়গাটাও ছোটখাটো নয়।
লাল-নীল পতাকায় সজ্জিত নৌকাগুলো যেন আমাদের বিদায় দেওয়ার জন্যই অপেক্ষায় ছিল। পতপত করে উড়তে উড়তে বিদায় দেয় আমাদের।
সফরের স্মরণীয় স্মৃতি || চরফ্যাশন & মনপুরা
Reviewed by pencil71
on
December 25, 2021
Rating:
Reviewed by pencil71
on
December 25, 2021
Rating:








No comments: