Technology

test

ফ‌রিদপু‌র অঞ্চলের অন্যতম ইসলামী শিক্ষা‌বিদ || সম্পাদকীয়


ফ‌রিদপু‌র অঞ্চলের অন্যতম ইসলামী শিক্ষা‌বিদ
অধ্যক্ষ মাওলানা মুনীরুজ্জামান ফরিদী
------------------------------------------------

সংক্ষিপ্ত জীবনী
জন্ম : ৮ মার্চ ১৯৩৫
জন্মস্থান : বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার শুকতাইল গ্রাম
পিতা : ডা. মো. ঈমানুদ্দীন বিশ্বাস
মাতা : মুসাম্মাৎ নূরজাহান বেগম
দাদা : মো. বসিরুদ্দীর বিশ্বাস
নানা : মো. ইজ্হারুদ্দীন শিকদার
পিতৃকুল ও মাতৃকুল উভয়ই ঐতিহ্যমন্ডিত ও সমৃদ্ধ।
পিতা এন্ট্রান্স (মেট্রিকুলেশন- এসএসসি) পাশ ছিলেন। তাঁর কাছেই শিক্ষার হাতেখড়ি।
মাধ্যমিক শিক্ষালাভের সময়ই ভারতের মহাত্মা গান্ধী এবং পাকিস্তানের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ভাবশিষ্যে পরিণত হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিত্ব ওনাকে নাড়া দিয়েছিল। তিনি যখন ক্লাস থ্রি বা ফোরে পড়েন (১৯৪৩/১৯৪৪ সালে) তখন প্রথম শেখ সাহেবের সঙ্গে দেখা হয়। পাকিস্তান আমলে ফাতিমা জিন্নাহর নির্বাচন অভিযানে শেখ সাহেবের সাথে অনেক সভা করেছেন। তাঁর টুঙ্গিপাড়াস্থ বাড়িতেও তিনি অবস্থান করেছেন। ১৯৪৮/৪৯ সালের দিকে গোপালগঞ্জ শহরে খাজা নাজিমুদ্দীন সাহেব আসলেন। মরহুম শেখ সাহেবের একটি ছোট্ট পুস্তিকা সভাস্থলে বিলি করা হয়েছিল। ঐ পুস্তিকার একটি ইংরেজি কোটেশন আজও তাঁর স্মরণে আছে। কোটেশনটি হল- "We are muslims. We were born as muslims. We shall not budge an inch from the right path shown by Rasul-e-Karim (SM.)" অর্থাৎ, ‘আমরা মুসলমান। আমরা মুসলমান হিসেবে জন্মেছি। আমরা রসূল-এ-করিম (সাঃ)-এর দেখানো সঠিক পথ থেকে এক ইঞ্চিও নড়ব না।’ তখনও তাঁর ব্যক্তি জীবনে ইসলামী বিপ্লব ঘটেনি।

১৯৫০ সাল। প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁর লিখিত ‘ইসলামের মর্মকথা’ প্রবন্ধটি ফরিদী সাহেবের জীবনের মোড় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিল। সে লক্ষ্যটি হল ইসলাম শুধু ধর্ম নয়। একটি সভ্যতা, একটি সংস্কৃতি সর্বমানবের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ ও মঙ্গলের একমাত্র চাবিকাঠি।

১৯৫১ সালে মেট্রিক (এসএসসি) দ্বিতীয় বিভাগে পাস করার পর আরবি ভাষা ও কুরআন-হাদীস শেখার জন্য ক্বওমী মাদ্রাসার ইনফ্যান্ট ক্লাসে (ইয়ায্দহম) গিয়ে ভর্তি হন। দারুল ‘উলূম খাদিমুল ইসলাম, গওহরডাঙ্গা এবং পরে ঢাকার লালবাগ জামি‘আ কুর’আনিয়া থেকে সর্বমোট ৮ বছরে ‘দাওরা’ ২য় বিভাগে পাস করেন। মাদরাসা শিক্ষা রেকর্ডে আছে তিনি ফুল মার্কসের উপরেও নম্বর পেয়েছিলেন।
১৯৬১ সালে ধারণা জন্ম নিল, আধুনিক বিশ্বে যে জ্ঞান-বিজ্ঞান নেতৃত্ব দিচ্ছে, তা তাঁকে জানতে হবে। এ বছর সাইয়্যেদ ফাতিমা বেগমের সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হল। শ্বশুর বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানার বড়গুনী গ্রামের পীর সাহেব খ্যাত মওলানা সাইয়্যেদ হুসাইন সাহেব।
এইচএসসি, বিএ শেষ করলেন। কলেজে ধর্ম নিরপেক্ষতার পরিবেশে ছাত্র সংসদে তিনি এবং মাওলানা ইমদাদুল হক ইসলামী সংগঠনের ব্যানারে জয়লাভ করেছিলেন।

তিনিই গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু কলেজ মসজিদটির উদ্যোক্তা। নিজগ্রাম শুকতাইলে অবস্থিত মাদ্রাসার নাম ‘মুকীমুল ইসলাম’ তাঁর রাখা এবং তিনি শুকতাইল হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনকালে স্কুলটি বোর্ড মঞ্জুরী লাভ করে।

১৯৬৫ সালে এমএ পড়তে শুরু করেন। সাপ্তাহিক ‘জাহানে নও’ বাংলা পত্রিকার সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে এমএ পাস করেন। তখন তিনি ৩ সন্তানের জনক। একটানা ২৬ বছর একাডেমিক ক্যারিয়ার সমাপ্ত করলেন। তাঁর জীবনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল শুধু তাত্ত্বিক লেখাপড়া নয়। বরঞ্চ ইসলামকে বাস্তবে রূপ দেয়ার আন্দোলনও চালিয়ে যেতে হবে। রাজনীতি বলতে তিনি দেশ ও জাতির খিদমতকে বোঝেন। তার মতে- যারা রাজনীতি করে না, তারা একদিক দিয়ে স্বার্থপর ও ব্যক্তি কেন্দ্রিক। তারা দশজন নিয়ে ভাবে না। নীতি-নৈতিকতা বাদ দিয়ে রাজনীতি হয় না। সেটা হয় ভন্ডনীতি।

১৯৬৮, রাজনীতির ময়দানে হয়তো যোগ্যতা তেমন ছিল না। তাই কলেজের অধ্যাপনা শুরু করেন। মাদারীপুর বরহামগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে বছর খানেক কাজ করেন। বরিশাল চাখারে প্রায় ৮ বছর শিক্ষকতা করেন। এর সাথে আন্দোলনের সরাসরি নেতৃত্বও দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের পর চাখারে নারী-পুরুষ সমভিব্যাহারে প্রথম ইসলামী সেমিনার তাঁর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

১৯৭০-১৯৮০ সাল পর্যন্ত চাখার। এরপর ’৮০ তে ফরিদপুর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে যোগদান করেন। এক নাগাড় ১২ বছর এ কলেজে অধ্যাপনা ও কলেজ মসজিদে সম্মানীয় খতীবের দায়িত্ব পালন করেন। সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, ওয়াজ মাহফিল এবং ইসলামী বিষয়ে লেখালেখির কাজ তো কোন সময়ই থামেনি।

১৯৯২, গোপালগঞ্জ সাতপাড় সরকারি নজরুল কলেজ, একটি হিন্দু প্রধান কলেজ। এ কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করতে করতে অবসরে যাওয়ার বয়স পূর্ণ হল। কলেজে স্থায়ীভাবে উন্নয়নমূলক কাজের স্মৃতি রেখে বিদায় নিলেন। চাকুরী জীবন শেষ হল।
পড়াশুনায় ২৬ বছর। চাকুরীতে ২২/২৩ বছর। ২০১৫ সালে অবসরজীবনও ২২ বছর কেটে যাচ্ছে। জ্ঞান-গবেষণার ক্ষেত্রে ৫/৬টি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছেন।


ফ‌রিদপু‌র অঞ্চলের অন্যতম ইসলামী শিক্ষা‌বিদ || সম্পাদকীয় ফ‌রিদপু‌র অঞ্চলের অন্যতম ইসলামী শিক্ষা‌বিদ || সম্পাদকীয় Reviewed by pencil71 on December 24, 2021 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.