মক্কায় হারাম শরীফে আবারও সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা...
ঘটনাটি গত ২১মে’ শুক্রবারের। একজন ব্যক্তি বায়তুল্লাহর একজন ইমামকে হত্যা করার চেষ্টা চালায়। টেলিভিশনের স্ক্রীনে হারামের কার্যক্রম অন্য সব দিনের মতো সেদিনও লাইভ দেখানো হচ্ছিলো। টিভির ফুটেজেও গোটা ঘটনাটি পরিস্কার দেখা যায়। কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মী মোহাম্মাদ আল জাহরানি দ্রুত বেগে ইমামের দিকে ছুটে যাওয়া ব্যক্তিকে বাঁধা প্রদান করেন। পরবর্তীতে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
আক্রমনকারী ব্যক্তির নিজেকে ইমাম মাহদি হিসেবে দাবি করছিল। সৌদি আরবের আল ওয়াতান পত্রিকার খবর অনুযায়ী তিনি একজন সৌদি নাগরিক এবং তার বয়স ৪০ বছর। অন্য সবার মতো ইহরামের পোশাক পরিধান করে তিনি কাবা চত্বরে প্রবেশ করেন। হঠাৎ করেই তিনি মিম্বারে অবস্থানরত বায়তুল্লাহর ইমাম শেখ বান্দার বালীলাহকে মারার জন্য ছুটে যান। শেখ বালিলাহ সে সময়ে জুমআর খুতবা প্রদান করছিলেন। এ ঘটনার পর সৌদি গনমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরাপত্তা কর্মী আল জাহরানির ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।
এর আগে গত মার্চ মাসেও তাওয়াফ করার সময় একজন ব্যক্তিতে ছুড়ি বের করে চরমপন্থী স্লোগান দিচ্ছিলেন। তখন আশপাশের অন্যান্য তাওয়াফকারী ও পুলিশ সদস্যরা মিলে তাকে পাকড়াও করেন। বিগত ১৪শ বছরে অনেকেই ইমাম মাহদি হিসেবে দাবি করেছে এবং কাবা ঘরে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭৯ সালে জুহাইমান এবং মোহাম্মাদ আল কাহতানির ঘটনাটি বেশ বড়ো আকারে সংঘটিত হয়েছিল। জুহাইমিনকে পরবর্তীতে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়।
ইমাম মাহদি প্রসঙ্গে সিয়াহ সিত্তাহতেই প্রায় ৩০টি হাদিস পাওয়া যায়। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছিঃ মাহ্দী আমার পরিজন হতে ফাতিমার সন্তানদের বংশ হতে আবির্ভূত হবে। (আবু দাউদ: ৪২৮৪)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মাহদী আমাদের আহলে বাইত থেকে হবে। আল্লাহ তা’আলা তাকে একরাতে খিলাফতের যোগ্য করবেন। (৪০৮৫)
বাকি হাদিসগুলো একইসাথে কম্পাইল আকারে প্রেক্ষাপট ও ব্যাখ্যাসহ আমার অনূদিত এবং প্রচ্ছদ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘কারবালা, ইমাম মাহদি, দাজ্জাল ও গাজওয়ায়ে হিন্দ শীর্ষক বইতে পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। এ বইটিতে আরো কিছু বিষয় বেশ পরিস্কার করে বলা হয়েছে।
হাদিসে একজন মাহদি আগমনের কথা আছে বলে আমরা নিজ দায়িত্বে সেই হাদিস বাস্তবায়নের দায় কাঁধে তুলে নিতে পারি না। বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে তাই হচ্ছে। নিজেকে কখনোই হাদিসের চরিত্র হিসেবে ভেবে নেয়ারও কোনো সুযোগ নেই। যখন এটা হওয়ার তখন হবে, আমরা কেউ আল্লাহর ফায়সালাকে এক মুহুর্তের জন্য এগুতে বা পিছাতে পারবো না।
আমাদের টঙ্গীর এক ব্যক্তির ভিডিও কয়েকমাস আগে ভাইরাল হয়েছিল। তিনিও নিজেকে ইমাম মাহদি হিসেবে দাবি করেছিলেন। তার আর কোনো খবর পরবর্তীতে পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন হলো, দুদিন পর পর ইমাম মাহদির এমন দাবিদার কেন তৈরি হয়?
প্রথমত, চারিপাশের দৃশ্যপটগুলো দেখে যে প্রকট হতাশা তৈরি হয়, তার কারণে। আর দ্বিতীয়ত, আমাদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে। আমরা নিজেদের সাধ্যনুযায়ী কাজ না করে ইমামের অপেক্ষায় বসে আছি। অথচ, ইমাম মাহদি আসবেন বলে আপনার আমার দায়িত্ব পালন না করে অলস বসে থাকারও কোনো সুযোগ নেই। তিনি যখন আসবেন, তিনি নিজ দায়িত্বে মুসলিম জাহানকে একত্রিত করবেন। আর মুসলিম হিসেবে যারা সে সময়ে থাকবেন, তাদের দায়িত্ব হবে, তার আনুগত্য করা, তাকে সহযোগিতা করা।
কিন্তু তিনি কোনো এক সময় আসবেন বলে এই মুহুর্তে আপনি আপনার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন না, এমনটা ভাবার ন্যুনতম সুযোগ নেই। মাহদির জন্য অপেক্ষায় ছিলাম বলে আমি আমার কাজটি করিনি- এমনটা বলে আল্লাহর কাছে মাফ পাওয়া যাবে না। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করবো কিন্তু ফলাফল দেয়ার এখতিয়ার কেবলমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের।
মক্কায় হারাম শরীফে আবারও সন্ত্রাসী হামলা
Reviewed by pencil71
on
May 29, 2021
Rating:
Reviewed by pencil71
on
May 29, 2021
Rating:

No comments: