বৃটিশ থেকে বাংলাদেশ
বিল্লাল হোসেন
মুক্তি যুদ্ধের সময় তিনটি স্পেশাল বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন যথাক্রমেঃ জিয়াউর রহমান "এস ফোর্স", খালেদ মোশাররফ " জেড ফোর্স "এবং কে.এম. শফিউল্লাহ "কে ফোর্স"। মুক্তিবাহিনীর পাশাপাশি গঠন করা হয়েছিলো মুজিব বাহিনী এবং নৌবাহিনী। এছাড়াও স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন বাহিনী গঠন করা হয়েছিলো, যেমন টাঙ্গাইলে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে কাদেরীয় বাহিনী।
ভারত সরকার আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভে বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের পক্ষে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। এবং সর্বশেষ পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করলে, ভারত সরাসরি ৩রা ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রন করেন। এর পূর্বে ভারত শুধু মুক্তি বাহিনী দের ট্রেনিং, অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছিলো। ভারতের সহযোগিতায় অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে মুক্তিযুদ্ধে নাটকীয় পরিবর্তন আসে।
পাকিস্তানি বাহিনী একের পর এক জায়গা হারাতে থাকে। এভাবে ১৬ ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী সরোহওয়ার্দী উদ্যানে আত্ম সমার্পণ করে। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার জগজিৎ সিং অরোরা বাংলাদেশের পক্ষে এবং ওয়াজেদ নিয়াজি পাকিস্তানের পক্ষে আত্মসমার্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে, ভারতীয়দের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছিলো।ভারত আমদের সহোযোগিতা করেছিলোসত্য,পাশাপাশি যুদ্ধের পর পাক বাহিনীর অস্ত্র,ট্যাং এবং গোলাবারুদ সহ অনেক সম্পদ নিয়েগিছিলো তাঁরা। যার বিরোধিতার কারণে মেজর জলিল কে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী হতে হয়েছিলো। যশোর ক্যান্টনমেন্টে তাঁকে বন্দী করা হয়েছে। এমনকি আত্মসমর্পণের সময় মুক্তিবাহিনীর প্রধান এমএজি ওসমানী উপস্থিত ছিলেন না। ১৭ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর চূড়ান্ত আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষরের সময় একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে মেজর জলিল কে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি কিন্তু কেন?
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন এক শ্রেণীর আলেম,রাজনৈতিক দল,এবং কিছু সাধরণ লোক মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো। কেউ স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলো স্বার্থ হাসিলের জন্য, কেউ করেছিলো রাজনৈতিক সুবিধার জন্য, কেউ স্বাধীনতা যুদ্ধকে ভারতীয় ষড়যন্ত্র মনে করে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো। ভারত সরকার মুক্তিযুদ্ধে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলো এজন্য এ ধারনা যুক্তিযুক্ত ছিলো। কিছু লোক অতি আবেগের জায়গা থেকে ধর্ম রক্ষার জন্য মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো। বাস্তবিক পক্ষে তারা নিজেরাতো ধর্মের অনুশাসন মানতোনা পাশাপাশি অধর্ম খেলায় মেতে ওঠে ছিলো। যেমনঃ হত্যা, সম্পদ অপহরণ, ধর্ষনসহ আরো নানা অপরাধ।
যে কোন দেশে স্বাধীনতা লাভের পূর্বে স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করা বা বিরোধিতা করা হয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, কিন্তু স্বাধীনতা লাভের পরে হয় দেশদ্রোহী বা দেশপ্রেমিক। তবে যাই হোক না কেন, যৌক্তিক কারনে হোক বা অযৌক্তিক কারণে হোক স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করা কোন ব্যাক্তি বা রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত হতে পারে। কিন্তু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কর্মকান্ড সমর্থন যোগ্য ছিলোনা।
বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু দেশে প্রত্যবর্তন করে ১৯৭২সালের, ১০ জানুয়ারী। তিনি দেশে ফিরেছিলেন সমগ্র বাঙালি জাতির নেতা হিসেবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কিছুদিন পরেই হয়েগিয়েছিলেন শুধু আওয়ামীলীগের নেতা। তিনি দেশে প্রজাতান্ত্রিক তথা সংসদীয় সরকার ব্যাবস্থা কায়েম করেন। এতে গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়েছিলো ঠিক। কিন্তু ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে সরকারদলীয় নেতারা সরকারি যানবাহন ব্যাবহার করে, বঙ্গবন্ধু হেলিকপ্টারে চড়ে ঘূর্ণিঝড় ট্যুরের ন্যায় প্রাচারণা চালিয়ে নির্বাচনে অশংগ্রহন করেছিলো। অথচ বিরোধী নেতারা রেডিও- টেলিভিশনে ভাষণতো দূরের কথা যানবাহনের অভাবে তাঁরা ঠিকভাবে প্রচার চালাইতে পারলেন না। যা ছিলো সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক।
দালাল আইনের মাধ্যমে জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করাহয়েছিলো। অসংখ্য মানুষকে দুই বছর পর্যন্ত বিনা বিচারে আটক রাখা হয়েছিলো। অথচ আটককৃত দের অনেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিলো এবং অনেকের ছেলে,নাতি- পুতিরা মুক্তিযোদ্ধা ছিলো। দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে গিয়েছিলো। তৎকালীন সময়ে লাইসেন্স ব্যাতিত ব্যাবসা করা যেত না,আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা লাইসেন্স তৈরী করে চওড়া মুল্যে সেই লাইসেন্স বিক্রি করতো। ১৯৭৩,৭৪ সালে ব্যাপক পরিমান মানুষ ক্ষুদার্ত জীবন যাপন করেছিলো, এমনকি অসংখ্য লোক না খেয়ে মারা গিয়েছিলো।
দেশের সার্বিক অবস্থার জন্য বঙ্গবন্ধু পুরোপুরি দায়ি ছিলেন না। প্রথমত তাঁর দলের রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা ব্যাপক পরিমাণে দূর্নীতিপরায়ন ছিলেন। তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্য আনতেন আর তার দলের লোকজন চুরি করে খেয়ে ফেলতেন। দ্বিতীয়ত প্রকৃতি তাকে সাপোর্ট করে নাই। কারণ তাঁর ভাগ্যটা তেমন ভালো ছিলোনা। ১৯৭০ সালের জলোচ্ছ্বাস, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ধ্বংস লীলা এবং ১৯৭৩ সালে খরার কারণে দেশে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছিলো, যার ফলে দেশে অভাব সৃষ্টি হয়েছিলো। এ অভাব অনটন এবং সরকার দলীয় লোকদের অপশাসনে আওয়ামীলীগের প্রাতি জনগণ এবং ছাত্রদের সমর্থন দিন দিন কমতে থাকে।
বৃটিশ থেকে বাংলাদেশ // প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি
Reviewed by pencil71
on
June 16, 2021
Rating:
Reviewed by pencil71
on
June 16, 2021
Rating:

No comments: