শাইখ ইউসুফ আল ক্বারাদাওয়ী
তকী উসমানী
পর্ব-১
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের মালিক। সালাম ও দরুদ তাঁর মহান রাসুল সা. এর উপর, তাঁর পরিবার ও সাহাবাদের উপর এবং যারা তাঁকে কিয়ামত পর্যন্ত সর্বোত্তম পন্থায় অনুসরণ করবেন তাদের উপর। আমি ১৯৭৪ সালে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের ব্যবস্থাপনায় মসজিদ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে আমার আব্বা আল্লামা, শাইখ এবং মুফতি মুহাম্মাদ শফীর (আল্লাহর তাঁর উপর রহম করুন) সাথে পবিত্র দুই মসজিদ সফর করেছিলাম। আমরা মক্কার মসজিদুল হারামের পাশে একটি হোটেলে উঠি। একদিন হোটেল থেকে মসজিদুল হারামের দিকে যাচ্ছিলাম।
এলিভেটরে উঠার সময় একজন মর্যাদাসম্পন্ন চেহারার ব্যক্তিকে দেখলাম। তাঁর ভিতর হতে আত্মমর্যাদা এবং আত্মসম্মানবোধের নিশান ঠিকরে বের হচ্ছে যা কেবল গভীর জ্ঞান থেকেই উৎসরিত হতে পারে। তিনি তাঁর আলোকদীপ্ত চেহারা নিয়ে আমার দিকে তাকালেন। আমি তাঁর চেয়ে বয়সে ছোট হওয়া স্বত্ত্বেও তিনিই প্রথম আমাকে সালাম দিলেন। আমি তাঁর সালামের জবাব দিলে, তিনি আমাকে আমার দেশ এবং মক্কায় আসার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। প্রশ্নগুলো আমাকে খুব আশ্চর্য করলো, কেননা আমাদের আরব ভাইদের অভিজাত লোকদের মধ্যে যে জিনিসটি আমি প্রায়শই লক্ষ্য করেছি তা হলো, প্রথমে সালাম দেওয়া কিংবা খোঁজ-খবর নেওয়া তো দূরে থাক তারা অনারবদের ততোটা পাত্তাই দেয় না। কিন্তু এই মহান ব্যক্তিটি আমার সাথে কোনো রকম জড়তা ছাড়াই কথা বলছেন, যদিও তিনি বয়সে আমার চেয়ে বড়।
বস্তুত তাঁর নাম, ইলমী মর্যাদা অথবা তাঁর ব্যবহারিক অর্জনের সাথে পরিচিত না হয়েও তাঁর এই গুণটিই আমাকে তাঁর দিকে আকৃষ্ট হতে, তাঁর সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে ও তাঁর মহৎ চরিত্র এবং বিশুদ্ধ ও উন্নত আত্মার সঠিক মূল্যায়ন করতে অনুপ্রাণিত করে। যখন আমি তাকে বললাম যে, আমি আমার আব্বা শাইখ মুফতি মুহাম্মদ শফি সাহেবের সাথে এই সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছি, তিনি জানালেন যে, তিনি আমার আব্বাকে তাঁর কিছু লেখার মাধ্যমে চেনেন। এ লেখাগুলোর মধ্যে “ইসলামী অর্থনীতিতে সম্পদের বন্টন” বিষয়ে আমার আব্বার লেখা গবেষণা পত্রের কথা তিনি উল্লেখ করেন, যা তিনি আল বা’থ আল ইসলামীতে পড়েছিলেন। তিনি এ লেখা দ্বারা চমৎকৃত হয়েছিলেন, কেননা এই গবেষণায় অত্যন্ত সহজ ভাষায় অভিনব কিছু চিন্তা সামনে আনা হয়েছে। এতে আমার কাছে এটি পরিস্কার হয়ে গেলো যে, এই ব্যক্তি আলেম এবং জ্ঞানপিপাসুদের একজন যাঁর ইলমী দিগন্ত জাতীয় এবং মহাদেশীয় সীমানা অতিক্রম করেছে। এতে তাঁর প্রতি আমার ভালোবাসা বৃদ্ধি পেলো। আমি তাঁর মহান নামটি জানতে চাইলাম এবং তিনি উত্তর দিলেন “ইউসুফ আল ক্বারাদাওয়ী”।
এটা ছিল অত্যন্ত বড়মাপের একজন আলেম, ইসলামের একজন মহান দা’য়ী ড. শায়খ ইউসুফ আল ক্বারাদাওয়ীর সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎ। তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখার মাধ্যমে তাঁর সাথে আগেই আমার পরিচয় ঘটেছিল এবং এখন আমি তাঁর উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব, বিশুদ্ধ ইসলামী চরিত্র এবং উচ্চমাত্রার বিনয়ের সাথে পরিচিত হলাম। এই প্রাথমিক সাক্ষাৎ কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী ছিলো না; এর মধ্যেই আমরা নিচ তলায় পৌঁছলাম এবং মসজিদে হারামের দিকে হাটতে লাগলাম। কিন্ত এই সাক্ষাৎ পরবর্তী সব সাক্ষাৎগুলোর একটি সুন্দর সূচনার সূত্রপাত করলো এবং এর ফল আমি বিভিন্ন ইসলামী বিশ্বে সম্মেলন, আলোচনা সভা এবং আলেমদের জমায়েতে লাভ করেছি।
কাতার তাঁর ইলমী এবং ইসলামী কাজের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল। তাঁর পাকিস্তান সফর ও আমার কাতার সফর এবং ধারাবাহিক কিছু সমাবেশে সাক্ষাতের ফলে আমাদের মাঝে এমন সম্পর্ক তৈরি হয় যেন আমরা একই পরিবারের সদস্য। যেহেতু আমি তাঁর নৈকট্য ও সান্নিধ্য পেয়ে ধন্য হয়েছি, এই পরিচিতি তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রতি আমার ভালোবাসা, তাঁর গবেষণালব্ধ জ্ঞানভান্ডারের প্রতি শ্রদ্ধা, তাঁর সৎকাজের প্রতি সম্মান এবং ইসলামী উম্মাহর বিভিন্ন বিভাগে তাঁর সংস্কার প্রচেষ্টার প্রতি আমার বিস্ময় বাড়িয়েছে।
কিছু ভাইয়েরা আমাকে এই মহান আলেমের ব্যাপারে কয়েক কলম লিখতে অনুরোধ করেন যা তাঁর গবেষণালব্ধ প্রকাশনা, দাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কার্যকরী অংশগ্রহণ, তাঁর পঠন-পাঠন ও গবেষণার পর্যালোচনায় প্রণীত একটি বইয়ের অংশ হবে। উদ্যোগটি আমার কাছে প্রশংসাযোগ্য মনে হয়েছে। তবে আমার চারপাশের সামষ্টিক পূর্বানুমান তাঁর লেখার বিশ্লেষণমূলক পাঠ থেকে আমাকে বিরত রেখেছে। বিশ্লেষণমূলক পাঠের পরিবর্তে তাই আমি সংক্ষিপ্তভাবে তাঁর ব্যাপারে আমার কিছু অভিমত প্রকাশ করবো। কেননা যা সামগ্রিকভাবে তুলে আনা যাবে না তা সামগ্রিকভাবে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। আশা করছি অন্যরা বিশ্লেষণমূলক পর্যালোচনার কাজটি করবে
শাইখ ইউসুফ আল ক্বারাদাওয়ী
Reviewed by pencil71
on
August 22, 2019
Rating:
Reviewed by pencil71
on
August 22, 2019
Rating:

No comments: