Technology

test

জনদরদি চেয়ারম্যান


জনদরদি চেয়ারম্যান
মু.বিল্লাল হোসেন
শিক্ষার্থী মাদারীপুর সরকারি কলেজ

মির্জাপুর ইউনিয়নের মিয়ারচর একটি দূর্গম এলাকা। যোগাযোগের জন্য নেই কোন রাস্তা। ছোট একটি নদী ছিল তাও ভরে গিয়ে নৌকা বা ট্রলার চলাচল করার অনুপযোগি হয়ে গেছে। বর্ষা কালের প্রথম ধাক্কায় তলিয়ে যায় এলাকার একমাত্র চলাচলকারী নিচু রাস্তাটি। স্কুল, মাদরাসা এবং কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদের আর দুঃখের সীমা থাকে না। দৈনিক শহরগামী মানুষের যাতায়াতেও অনেক কষ্ট হয়। বহু বছর পর ঐ এলাকায় একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। গ্রামের মানুষের মুখে হাসি ফুটলো যে, তাদের ভাগ্যের চাকা বুঝি এবার পরিবর্তন হবে।

তবে গ্রাম বাসীর ভাগ্যের পট এবারও খুললো না। চেয়ারম্যান সাহেব বললো, আপনাদের এই রাস্তার জন্য আমি কোথায় না গিয়েছি বলেন এলজিউডি থেকে সচিবালয়। কিন্তু কেউ আমাকে কাজ দেয় না, দোষ আমার একটাই আমি গভমেন্ট পার্টির লোক নই। জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতার পালা বদল হলো, এলাকাবাসী খুশি হলো হয়তোবা তাদের জন্য এবার কিছু হিল্যা হবে। তারা পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে চেয়ারম্যান কে পুনরায় নির্বাচিত করলো। এবার সবার মুখে আনন্দের হাসি ফুটলো। কিন্তু এবারও চেয়ারম্যান কিছু করতে পারলো না, কারণ তারা নেতা নমিনেশন পায়নি। অন্য নেতা এমপি হয়ে চেয়ারম্যানকে কাজ দিবে দূরের কথা, তার উপর খরগ হয়ে তার সকল বাজেট বন্ধ করে দিলো। এ যেন গাছে উঠিয়ে মই কেড়ে নেওয়া হলো গ্রাম বাসীদের থেকে।

পরিবর্তনের হাওয়া ধ্রুপদি নয় বরং মন্থর গতিতে এগুতে লাগলো। চেয়ারম্যান সাহেব ঘোষণা করলো এই ছোট নদীর পশ্চিম মাথায়, উপজেলা চেয়ারম্যান কে অনেক অনুরোধ করে একটি ব্রিজ বরাদ্দ করা হয়েছে। গ্রামে সিকদার এবং মাতুব্বরদের মাঝে বর্তমানে দা-কুমড়া সম্পর্ক। যার ফলে একটির পরিবর্তে পাশাপাশি দুইটি সাঁকো দেয়া হয়। তাদের সম্পর্ক যখন ভালো ছিল তখন সাঁকো হইতে একটি। তা হতো ব্যক্তিগত উদ্যোগে, একজনে সাঁকো দিয়ে গ্রাম বাসীর থেকে টাকা উত্তোলন করতো। লাভ ক্ষতি ঐ ব্যক্তির হতো। প্রত্যেক বছর জ্যোষ্ঠ মাস আসলেই এলাকার কিশোর-কিশোরীরা সাঁকোর উপর লাফালাফি করে সাঁকোর অবস্থা বেহাল করে ফেলতো।আর তখন মজনু মিয়া কিশোরদের ব্যাপক গালাগাল করতো। বিশেষ করে শালারপোর পোলাপান গাইল দিলে কয়েক আনাচ দেয়, এই গালি সব সময় সে দিতো। কিন্তু তার কথা কেউ মানতোনা। সর্বশেষ বিছানো কিছু বাঁশ ব্যাতিত সব কিশোরদের প্রলয়ংকারে ধ্বংস হয়ে যেতো।

ব্রিজ কোন জায়গায় হবে এ নিয়ে দু পক্ষের মাঝে বিরোধ শুরু হয়ে গেলো। প্রথম কথা কাটাকাটি পরে বড় রকমের সংঘর্ষের উপক্রম হলো। এরকম পরিস্থিতিতে চেয়ারম্যানকে খবর দেয়া হলো। সে আসার পরে দুই পক্ষকে ডাকলো এবং এক জায়গায় ব্রিজ হওয়ার ব্যাপারে উভয় পক্ষকে মানার জন্য অনুরোধ করলো। কিন্তু কেউ সে কথা মানলো না, বরং দুই গোষ্ঠীর লোক দাবি করলো ব্রিজ তাদের বাড়ির সামনে করতে হবে। চেয়ারম্যান রাম ভজি না রহিম ভজিতে পরে গেলো। কারণ দুই পক্ষের লোক তার দরকার আছে। সে বললো শোনেন আমি আপনাদের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম কিন্তু সেটা আমার ভাগ্য হবে না। আমি আপনাদের অকল্যাণ চাই না, তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই ব্রিজ অন্য ইউনিয়নে দিয়ে দিবো। সাথে সাথে দুই বাড়ির সামনে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে দুটি সাঁকো বরাদ্দ করা হলো।

এই কাজের জন্য চেয়ারম্যান কে গ্রামের সবাই ধন্যবাদ দিতে লাগলো। কারণ তাদের আর সাঁকোর জন্য টাকা দিতে হবে না এবং গ্রামে আর ফাসাদ রইলো না। এর বেশ কিছুদিন পরে আবার জাতীয় নির্বাচন আসলো। এইবার চেয়ারম্যানের পক্ষের নেতা নমিনেশন পেলো। মিয়ারচর বাসী আনন্দে পুরা আটখান। সবাই ঐ নেতাকে ভোট দিলো এবং সে এমপি নির্বাচিত হলো। শুধু এমপি নন স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীত্ত্ব পেলো। গ্রামবাসী এইবার নির্বিঘ্নে উন্নয়নের স্বপ্নে বিভোর রইলেন। গ্রামের রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্দ দেয়া হলো। রাস্তা করতে গিয়ে নতুন সমস্যা সৃষ্টি হলো। গ্রামের সকল লোকদের ডাকা হলো স্কুক মাঠে।

এরপর চেয়ারম্যানের সহকারী বললো, আরে ভাই আপনাদের জন্য চেয়ারম্যানের দিল সব সময় কাঁদে। তার স্বপ্ন একটাই, আর তা হলো এই রাস্তা করা। সেতো রাস্তা সংস্কার করতে অনেক আগেই চোয়েছিলো, কিন্তু পারিনি বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থার কারণে। এখন যাদের জমি দিয়ে রাস্তা করা হবে তারা তো চাষের জমি কেটে মাটি দিবে না। চেয়ারম্যান কি করবে? এরপর চেয়ারম্যান খাকি কাঁশ দিয়ে গলা নরম করে বললো, শোনেন আপনাদের টেনশন করার প্রয়োজন নেই। আমাদের এমপি সাহেব স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীত্ত্ব পেয়েছেন। এই নদী খনন করার জন্য অনেক আগেই আবেদন করা হয়েছে এলজিইডিতে, এইবার মন্ত্রী কে বলে সেটা পাশ করাইতে পারবো ইনশাআল্লাহ। গ্রামবাসী সবাই বললো মারহাবা এইবার তাহলে রাস্তা হবে। কেউ আবার স্লোগান দিলো এলাকাবাসী ধন্য চেয়ারম্যানের জন্য, চেয়ারম্যানের দুই নয়ন এলাকাবাসীর উন্নয়ন। মন্ত্রী সাহেব দ্রুত বরাদ্দ দিবে বলে চেয়ারম্যানকে নিজ অর্থায়নে নদী খননের কাজ শুরু করার আদেশ করলেন। জনদরদী চেয়ারম্যান নিজ অর্থায়নে কাজ শুরু করলেন। কিছুদিন পর টিভির সংবাদে দেখা গেলো মন্ত্রী সাহেব দূর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হয়েছেন।


জনদরদি চেয়ারম্যান জনদরদি চেয়ারম্যান Reviewed by pencil71 on October 06, 2021 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.