Technology

test

যুদ্ধ বিরতি, তবে খুশি হওয়ার কারণ নেই!!


১৯৪৮ থেকে ২০২১। অন্তত অর্ধশতবার ফিলিস্তিন-ইসরাইল যুদ্ধ হয়েছে। প্রতিবারই ধ্বংসযজ্ঞ শেষে যুদ্ধবিরতি, ক্ষতি হয়েছে ফিলিস্তিনের। উল্টো দিন দিন দখলদারিত্ব বেড়েছে ইসরাইলের।

আবারও যুদ্ধ বিরতি, তবে খুশি হওয়ার কারণ নেই। কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু। খাদ্য-বাসস্থান সংকট। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার যুদ্ধ হবে। আরও নতুন এলাকা হস্তগত করবে ইসরাইল। অতীত তাই বলে।
মায়াকান্নায় কোনো লাভ নেই। লড়াইটা বিজ্ঞানের, ঢিলা-কুলুপের না। আয়রন ডোম আর মারনাস্ত্রের সামনে ঢিল ছুড়ে বিজয় হয় না। আবেগে অনেক কিছু বলা যায়। ফিলিস্তিনের যে অস্তিত্বের লড়াই পুরো কৃতিত্বটা কেবলই তাদের, সীমিত সামর্থোর মধ্যেও তারা প্রতিরোধ জারি রেখেছে। বাকি মুসলিম বিশ্বের কেবল হম্বিতম্বি।

উনিশশো আটচল্লিশে প্রথম লড়াই। এরপর গত ৭৪ বছরে ফিলিস্তিনের কিয়দংশ বাদে সব জায়গা কিন্তু ইসরাইলিরা দখলে নিয়েছে। কেবল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধেই পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর, গোলান মালভূমি, গাযা, সিনাই অঞ্চল পর্যন্ত দখল করে নেয়। গাযা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করলেও ইসরায়েল কিন্তু এখনো পশ্চিম তীরের দখলে। গত ৫০ বছর ধরে এসব দখলীকৃত জায়গায় ছয় লাখের বেশি ইহুদী বসতি স্থাপণ করেছে ইসরায়েল।

ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে তখনই যায়, যখন নিজেদের লাভ দেখে। এবারও কি তাই !
নাহ, এবার কিছু ভিন্ন প্রেক্ষাপটও রয়েছে।

সংকট সৃষ্টির গোড়া থেকেই ইসরায়েলের পাশে থেকেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমলে এ আঁতাত আরও ঘনিষ্ঠ হয়। বাইডেনও পূর্বসূরিদের মতোই তাঁর সুর অপরিবর্তিত রেখেছেন। কিন্তু এবার বাইডেনের ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্দর থেকেই শর্তহীন সমর্থনের বিষয়ে আপত্তি ওঠা শুরু হয়েছে। যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছেন বাইডেন।

ফিলিস্তিনের পক্ষে নতুন মুখ হয়ে উঠেছে মার্কিন কংগ্রেসম্যান রাশিদা তালেব। এবারের যুদ্ধবিরতি করার ক্ষেত্রে রাশিদা তালেবের সূক্ষ্ম কূটনীতিরও বড় ভূমিকা রয়েছে। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভুত এ নারী জো বাইডেনের মুখোমুখি হয়ে ইসরায়েলের প্রতি একপেশে মার্কিন নীতির প্রতিবাদ করেন। আবেগঘন বক্তব্যে রাখেন কংগ্রেস বৈঠকেও।  কংগ্রেসের অনেক সদস্যদেরও তিনি ফিলিস্তিনের পক্ষে আনতে সমর্থ হন। আর এ কাজে তার পাশে সবসময় পাশে ছিলেন ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেসম্যান ইমান জোদেহ এবং কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। 
ভূমিকা রয়েছে হোয়াইট হাউসের আইন প্রণয়নবিষয়ক উপপরিচালক ফিলিস্তিনের রিমা দোদিরও। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই জো বাইডেনের নিকটজন হিসেবে পরিচিত। 

অবাক করা তথ্য, এবারের হামলার বিরোধীতায় নেমেছেন ইহুদিরাও। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ইহুদিরা গাজা উপত্যকায় হামলা বন্ধের আহবান জানান। এমনকি গুগলের একদল ইহুদি কর্মী সংস্থাটির সিই্ও সুন্দর পিচাইকে প্রকাশ্যে হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিতে চিঠি লেখেন। সে চিঠিতে ২৫০ জন কর্মী স্বাক্ষর করেছেন। ‘জিউশ ডায়াস্পোরা ইন টেক’ নামের কর্মীদের ওই সংগঠন চিঠিতে ফিলিস্তিনি গুগলকর্মীদের কথা শোনা, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনিদের ত্রাণ সরবরাহের জন্য তহবিল প্রদান, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যেকোনো ধরনের চুক্তি বাতিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গুগলে কর্মরত ফিলিস্তিনিরা গাযার বাস্তবতা সঠিকভাবে তুলে ধরতে পেরেছিলেন ইহুদি কর্মীদের সামনে, ফলে এমন সিদ্ধান্ত এসেছে।
 
কঠিন বাস্তবতায় ফিলিস্তিনের মানুষেরা ঠিকই শিখছে। ইউরোপ-আমেরিকার উচ্চপদে চাকরির পাশাপাশি বসেছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতেও। দুজন মার্কিন কংগ্রেসম্যানও নির্বাচিত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও রয়েছে। গুগলের মত প্রতিষ্ঠানেও রয়েছে বেশ কিছু ফিলিস্তিনি তরুণ। গত বছর মালয়েশিয়ায় বসবাসরত একজন তরুণ বিজ্ঞানীকে গুলি করে হত্যা করে মোসাদ। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভুত বিজ্ঞানীদের সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়, মোসাদের নিশানায়। এরপরেও তাদের বিজ্ঞানচর্চা থেমে নেই। ইরান, লেবানন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, রাশিয়াসহ বেশ কিছু দেশে ফিলিস্তিনি নাগরিকরা অনিশ্চয়তা নিয়েই গবেষণা করছেন। 

একদিন সময় বদলাবে। এবং সেটি করবে ফিলিস্তিনিরাই। আমাদের মতো ঢিলা-কুলুপ তৈরির সিস্টেম শিখে সেই বদলে কোনো ভূমিকা রাখতে পারবনা। 

প্রতি গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠছে কওমি ঘরণার মাদ্রাসা। যেখানে সরকারি অনুমোদন লাগেনা। দুর্নীতিবাজরা অবৈধ টাকা ঢালেন এখানে। ভাবেন, বেহেশত নিশ্চিত। নামাজে এক লাইন মুসুল্লী না থাকলেও সৃদৃশ্য বহুতল মসজিদ বানান। কিন্তু চাইলেই এসব মসজিদ-মাদ্রাসাকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক কমপ্লেক্স করা সম্ভব। হুজুরদের প্রতি আনুগত্যকে কাজে লাগিয়ে এদেরকে বিজ্ঞানমুখী করা যায়। একেকটা মসজিদ মাদ্রাসাকে সম্ভব জ্ঞান-বিজ্ঞানের তীর্থ কেন্দ্র বানানো।  ছোট ছোট শিশুদের ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি নানা উদ্যোগ নিয়ে বিজ্ঞানচর্চায়ও আকর্ষণ করা যায়। ইসলাম কখনোই এসব কাজকে নিরুৎসাহিত করেনি। 

পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে যখন সভ্যতার আলোই পৌঁছায়নি, আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের আমলে তখন মুসলিমরা মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ছিল উচ্চতর গবেষণাকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মানমন্দির। পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় আল-কারাউইনও মুসলিমদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত। হযরত মোহাম্মদ (সা.) প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কেন্দ্র দারুল আরকাম।

বড় বড় বিক্ষোভ-সমাবেশের চেয়ে ২/৪ জন মার্কিন কংগ্রেসম্যান, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা বা বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীর কথার মূল্য বেশি। আবেগি কান্নার চেয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি কলাম বেশি প্রভাব রাখতে পারে..
এমন সহজ সত্য বুঝার জন্য ওলী-আউলিয়া হওয়ার দরকার নেই..


যুদ্ধ বিরতি, তবে খুশি হওয়ার কারণ নেই!! যুদ্ধ বিরতি, তবে খুশি হওয়ার কারণ নেই!! Reviewed by pencil71 on May 21, 2021 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.