Technology

test

মাদারীপুর জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে



এই জেলার উত্তরে ফরিদপুর জেলা ও মুন্সিগঞ্জ জেলা, পূর্বে শরীয়তপুর জেলা, পশ্চিমে ফরিদপুর জেলা ও গোপালগঞ্জ জেলা এবং দক্ষিণে গোপালগঞ্জ জেলা ও বরিশাল জেলা।

শাহ মাদার (র) ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে সিরিয়া হতে সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের শাসনকালে (১৩৫১-১৩৮৮খ্রি:) ভারতে পরে বঙ্গের নানা স্থানে ভ্রমণ করেন। চতুর্দশ শতাব্দীর কোনো এক সময়ে বঙ্গের বিভিন্ন স্থান ভ্রমনের এক পর্যায়ে তৎকালীন চন্দ্রদ্বীপের উত্তর সীমান্তে গভীর অরন্যের যে স্থানটিতে তিনি ক্ষণিকের অতিথি হয়ে সহযাত্রীদের নিয়ে যাত্রা বিরতি বা বিশ্রাম গ্রহণ করেছিলেন সে স্থানটিতে তার নামানুসারে হযরত শাহ মাদার (র.) এর দরগাহ শরীফ নামকরণ করে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মীত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগর সভ্যতার বিবর্তনের ফলে মাদারণ নাম থেকে ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে মাদারীপুর থানা-সাব ডিভিশন, ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে মাদারীপুর পৌরসভা এবং ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় মাদারীপুর জেলা।

১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের বাংলা ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বোপরি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সহ সকল আন্দোলন সংগ্রামে মাদারীপুরের কৃতী সন্তানরা বলিষ্ট ভূমিকা পালন করে। ১৭ এপ্রিল মাদারীপুরের প্রাথমিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৬৫ জন ছাত্র-যুবক মুক্তিযুদ্ধের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের উদ্দেশে রওনা দেন। ১০ ডিসেম্বর মাদারীপুরে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে মুক্ত হয়। হানাদারমুক্ত হবার আগ মুহুর্তে শত্রুর বাংকারে গ্রেনেড হামলা করতে গিয়ে পাকবাহিনীর গুলিতে শহীদ হন সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা ১৪ বছর বয়সী সরোয়ার হোসেন বাচ্চু। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৮৪ সালের ১লা মার্চ মাদারীপুর জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

মাদারীপুর জেলায় ৩ টি সংসদীয় আসন, ৪ টি উপজেলা, ৫ টি থানা, ৪ টি পৌরসভা, ৫৯ টি ইউনিয়ন, ১০৬২ টি গ্রাম, ৪৭৯ টি মৌজা রয়েছে।

শিরখাড়া, বাহাদুরপুর, কুনিয়া, পেয়ারপুর, ধুরাইল, রাস্তি, পাঁচখোলা, খোয়াজপুর, ঝাউদী, ঘটমাঝি, কেন্দুয়া, মস্তফাপুর, কালিকাপুর, ছিলারচর, দুধখালী;
শিবচর, দ্বিতীয়খন্ড, নিলখী, বন্দরখোলা, চরজানাজাত, মাদবরেরচর, পাঁচচর, সন্যাসিরচর, কাঁঠালবাড়ী, কুতুবপুর, কাদিরপুর, ভান্ডারীকান্দি, বহেরাতলা দক্ষিণ, বহেরাতলা উত্তর, বাঁশকান্দি, উমেদপুর, ভদ্রাসন, শিরুয়াইল, দত্তপাড়া;
গোপালপুর, কাজীবাকাই, বালিগ্রাম, ডাসার, নবগ্রাম, আলীনগর, এনায়েতনগর, শিকারমঙ্গল, সাহেবরামপুর, রমজানপুর, কয়ারিয়া, বাশঁগাড়ী, লক্ষীপুর, চরদৌলতখান, পূর্ব এনায়েতনগর; আমগ্রাম, বদরপাশা, বাজিতপুর, হরিদাসদী-মহেন্দ্রদী, হোসেনপুর, ইশিবপুর, কবিরাজপুর, কদমবাড়ী, খালিয়া, পাইকপাড়া, রাজৈর।

মাদারীপুর জেলার মোট জনসংখ্যাঃ ১২,১২,১৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫,৯৭,৩৭২ জন ও মহিলা ৬,১৪,৮২৬ জন। মাদারীপুর জেলায় ১০,২৩,৭০২ জন মুসলিম, ১,৪১,০৯৭ জন হিন্দু, ৩৬ জন বৌদ্ধ, ১,০৯১ জন খ্রিস্টান এবং অন্যান্য ধর্মের প্রায় ২৬ জন।

মাদারীপুর জেলার শিক্ষার গড় হার ৪৮%। পুরুষদের মধ্যে এই হার ৫০.১১% এবং মহিলাদের মধ্যে ৪৫.৯৩%। মাদারীপুরে ৬৭৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৮৯টি এনজিও স্কুল, ৭৬টি কিন্ডারগার্টেন, ১৬৪টি মাদ্রাসা, ১৬১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (২টি সরকারিসহ), ২৩টি কলেজ (৫টি সরকারিসহ), ১টি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, ১ টি সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ, ১টি ভেটেরিনারি কলেজ, ১০টি ভোকেশনাল।

মাদারীপুর জেলায় প্রায় ১০টি নদী আছে।
পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ নদী, কুমার আপার নদী, কুমার লোয়ার নদী, বিশারকন্দা-বাগদা নদী, টর্কি নদী, পালরদী নদী, পালং নদী, মাদারীপুর নদী এবং ময়নাকাটা নদী।

পত্র-পত্রিকা
দৈনিক: সুবর্ণগ্রাম (১৯৯৮), প্রান্ত (২০০১), মাদারীপুর নিউজ (২০০৬), বিশ্লেষণ (২০০৯); সাপ্তাহিক: সুপ্রভাত (১৯৯১), শাহ মাদার (১৯৯৩), শরীয়তউল্লাহ (১৯৯৬), আজকাল (১৯৯৯), গণসচেতনতা (২০০৬), সুবার্তা (২০০৭);
মাসিক: যুগচেতনা (১৯৯১), পোস্টার (১৯৯১), শান্তি সাময়িকী (১৯৯২), জাবল-ই-নূর (২০০৫); সাহিত্য পত্রিকা: কথন, বোধীবৃক্ষ, অংশু, সন্দীপন, কিশলয়, বৈশাখী, ঊষা, ক্যানভাস, বর্ণমালা, নবপ্রভাত; অবলুপ্ত: দৈনিক দিগন্ত (১৯৬০), সাপ্তাহিক জননী বাংলা (১৯৭২), সাপ্তাহিক মাদারীপুর বার্তা (১৯৮৬), সাপ্তাহিক আড়িয়াল খাঁ (১৯৮৯), পাক্ষিক বালারঞ্জিকা (১৮৬৩)।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জরিপ অনুযায়ী ৩৩৬৬ টি মসজিদ এবং ৩৩০ টি মন্দির, ৭ টি গির্জা ও ৩ টি মাজার রয়েছে।

মু.মেসবাহ্ উদ্দিন
সভাপতি
বিআইসিএস মাদারীপুর জেলা
মাদারীপুর জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে মাদারীপুর জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে Reviewed by pencil71 on December 18, 2020 Rating: 5

1 comment:

  1. অনেক তথ্য বহুল আলোচনা,নিজ জেলা সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম।লেখক কে অসংখ্য ধন্যবাদ।

    ReplyDelete

Powered by Blogger.