(প্রথম পর্ব.... চলবে)
আজ মহান স্বাধীনতা দিবস।এ মাসটি বাঙালিদের বিজয় অর্জনের মাস।১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলার দামান ছেলেরা পাকিস্তানিদের পরাজিত করে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে উড্ডয়ন করেছিল লাল সবুজের বিজয় পতাকা।স্বাধীনতা দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বার প্রান্তে এসে আমরা কি স্বাধীনতার পূর্নতা লাভ করতে পেরেছি?যে আশা নিয়ে,যে আকাঙ্খা নিয়ে,যে স্বপ্ন নিয়ে,যে লক্ষ্য নিয়ে বাংলার আবাল, বৃদ্ধ, বনীতা মুক্তির সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন, সে স্বপ্ন কি আজ বাস্তবে পরিলক্ষিত হচ্ছে?এক কথায় উত্তর হবে না।
স্বাধীনতার পূর্ণ অধিকার বা সুযোগ সুবিধা আজও বাঙালি সম্পূর্ণরুপে লাভ করতে পারে নাই।কিন্তু কেন? এর পিছনে অনেক কারণ রয়েছে। বাঙালিদের ইতিহাসই হচ্ছে শোষণ, নির্যাতন,বঞ্চনার এবং ষড়যন্ত্রের ইতিহাস। বাঙালির এ দূরাবস্থার অনেকগুলো কারণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। আমাদের ইতিহাস বলতে গেলেই সামনে আসবে শুধু ষড়যন্ত্রের ইতিহাস।১৭৫৭ সালে ২৩শে জুন মীর জাফর, জগৎ শেঠ, রায় দূর্লভ,ঘষেটি বেগম এবং শওকত জংয়ের ষড়যন্ত্রে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলার সূর্য অস্তমিত হয়।
এরপর শুরু হয় বৃটিশ বেনিয়াদের ষড়যন্ত্র। তারা ক্রমান্বয়ে পুরো ভারত বর্ষ দখল করে নেয়।বৃটিশ সম্রাজ্যের(ভারতীয় উপমহাদেশ)একেই সাথে বাংলা প্রদেশের রাজধানী ছিলো কলকাতা। পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গ একসাথে একজন গভর্নরের পক্ষে শাসন কাজ পরিচালনা করা অনেকটা দুসাঃধ্য ছিলো।এছাড়া এলান এক্টোভিয়ান হিউমের হাতে গড়া সংগঠন কংগ্রেস পার্টি রাজনৈতিক সচেতন পার্টি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।কংগ্রেস রাজনৈতিক ভাবে বৃটিশ বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে।১৯০৫ সালে শাসন ব্যাবস্থা সুদৃঢ় করণ এবং বৃটিশ বিরোধী ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন কে স্তিমিত করার লক্ষ্যে বাংলা প্রদেশ কে ভঙ্গ করে দুটি প্রদেশ গঠন করা হয়।যা ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
নতুন প্রদেশের গভর্ণর হন ব্যামফিল্ড ফুলার এবং রাজধানী হয় ঢাকা।পূর্ববঙ্গের মেজরিটি পার্সেন্ট ছিলো মুসলমান, তাই মুসলমানরা নতুন প্রদেশ এবং রাজধানী পেয়ে খুশি হয়েছিল। মূলত মুসলমানদের খুশি করার জন্যই বৃটিশরা বাংলাকে ভঙ্গ করেছিলো। কারণ বৃটিশদের পলিসি ছিলো ডিভাইড এ্যান্ড রুল তথা ভাগ কর এবং শাসন কর।বৃটিশরা যেহেতু মুসলিমদের নিকট থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিলো, তাই প্রাথমিক পর্যায়ে তারা মুসলমানদের পক্ষ থেকে ব্যাপক বাঁধার সম্মুখীন হয়।এবং হিন্দুদের বৃটিশরা বন্ধু রুপে পেয়েছিলেন।কিন্তু হিন্দুরা যখন রাজনৈতিক সচেতন হলো এবং বৃটিশ বিরোধী মনোভাব পোষন শুরু করলো, তখন বৃটিশরা মুসলমানদের কাছে টানতে শুরু করলো। এর ফলস্বরূপ বঙ্গকে ভঙ্গ করা হয়।
এই বঙ্গ ভঙ্গকে কংগ্রেস এবং হিন্দু নেতারা সহজে মেনে নেয়নি।কারন এতে করে কলকাতার দাদারা অল্পটাকায় শ্রমিক হারিয়েছিলো,উকিলরা মক্কেল হারিয়েছিলো,পূর্ব বঙ্গের সস্তা কাঁচামাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছিলো।কলকাতার নেতৃবৃন্দ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন শুরু করে।তারা আন্দোলন কে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রপাগান্ডা চালায়।যেমন বঙ্গভঙ্গ মানে বঙ্গ মাতার ভঙ্গ, তাই এই বঙ্গকে ভঙ্গ করা যাবে না। এবং রবিন্দ্রনাথ এই আন্দোলন কে বেগবান করার লক্ষ্যে,"আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি" গান রচনা করেছিলেন। কংগ্রেস কর্মীরা ব্যাপক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুরু করে।এ আন্দোলনে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য ক্ষুদি রামকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিলো।কলকাতায় হিন্দুরা বিলাতি পন্য বয়কট করেছিলেন। তারপর বাধ্য হয়ে বৃটিশরা বঙ্গভঙ্গকে রদ করেছিলো
কিন্তু বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষনা করলে মুসলমানরা দুঃখিত এবং ব্যাথিত হন।কারণ ঢাকা রাজধানী হওয়ায় নতুন নতুন সরকারি ভবন উঠেছিলো,সেক্রেটারিয়েট ভবন উঠেছিলো,হাইকোর্ট গড়ে উঠেছিলো, অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিলো এবং ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিলো। যার মোস্ট অফ পার্সেন্ট সুযোগ পেয়েছিলো মুসলিমরা।কলকাতা পুনরায় রাজধানী হওয়ায় মুসলিমরা এসব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন।তাই তারা রাজনৈতিক সচেতন হয়ে উঠে এবং মুসলিম লীগ নামে রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলেন।এভাবে চলতে থাকে বৃটিশদের শাসন।
এইচ এম বিল্লাল
বিএ অনার্স (শেষ বর্ষ)
ইংরেজি বিভাগ
মাদারীপুর সরকারি কলেজ, মাদারীপুর
বৃটিশ থেকে বাংলাদেশ // প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি
Reviewed by pencil71
on
December 16, 2020
Rating:
Reviewed by pencil71
on
December 16, 2020
Rating:

No comments: