""আমরা ততদিন পর্যন্ত নিস্তব্ধ হবো না, নীরব হবো না, নিথর হবো না। যতদিন আল-কুরআনকে এক অমর শাসনতন্ত্র হিসেবে দেখতে পাই আমরা এ কাজে হয় সফলতা অর্জন করবো, নয় জীবন উৎসর্গ করবো।"
শহীদ সাইয়েদ কুতুব
আজ সাইয়েদ কুতুবের শাহাদাৎ বার্ষিকী । ১৯৬৬ সালের ২৯ আগস্ট ভোর রাতে সাইয়েদ কুতুব ও তার দুই সঙ্গীকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। সাইয়েদ হাসিমুখে ফাসির মঞ্চে উঠেন। চারদিকে ভেসে উঠল ফজরের আযান। এমনি এক পবিত্র পরিবেশে কার্যকর করা হলো ইতিহাসের ঘৃণ্যতম আয়োজন, সাইয়েদ কুতুব ও তার সঙ্গীদের ফাঁসি, তাঁরা পৌছে যান তাঁদের প্রিয় প্রভুর সান্নিধ্যে।
১৯৫৪ সালে সর্বপ্রথম তাকে যখন এক মিথ্যা মামলায় রোগাক্রান্ত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে টেনে-হিচড়ে কারাগারে প্রেরণ করে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।
পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার শর্তে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাবের জবাবে সাইয়েদ বলেন-
‘আমি এ প্রস্তাব শুনে অত্যন্ত আশ্চার্যান্বিত হচ্ছি যে, মজলুমকে জালিমের নিকট ক্ষমার আবেদন জানাতে বলা হচ্ছে।
খোদার কসম।
যদি ক্ষমা প্রার্থনার কয়েকটি শব্দ আমাকে ফাঁসি থেকেও রেহাই দিতে পারে,
তবুও আমি এরূপ শব্দ উচ্চারণ করতে রাজি নই।
আমি আল্লাহর দরবারে এমন অবস্থায় হাজির হতে চাই যে, আমি তাঁর প্রতি এবং তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট।
এভাবে বারবার তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন এবং জবাবে বলেন-
‘‘যদি আমাকে যথার্থই অপরাধের জন্য কারারুদ্ধ করা হয়ে থাকে,
তাহলে আমি এতে সন্তুষ্ট আছি।
আর যদি বাতিল শক্তি আমাকে অন্যায়ভাবে বন্দী করে থাকে,
তাহলে আমি কিছুতেই বাতিলের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবো না।’’
সর্বশেষ তাকে ক্ষমা চেয়ে মুক্তি প্রাপ্তি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হলে জবাবে তিনি বলেন-
‘আমি দুঃখিত।
মন্ত্রিত্ব গ্রহণ আমার পক্ষে সে সময় পর্যন্ত সম্ভব নয়,
যতক্ষণ না পর্যন্ত মিসরের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে ইসলামী ছাঁচে ঢেরে সাজাবার এখতিয়ার দেয়া না হবে।’’
১৯৫৪ থেকে ১৯৬৪ সাল, একটানা ১০ বছর সশ্রম কারাভোগের পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
কিন্তু বছর যেতে না যেতেই ১৯৬৫ সালে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।
এবারে তিনি তার গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখে বলেন-
"আমি জানি জালেমরা এবার আমার মাথাই চায়।
তাতে আমার কোন দুঃখ নেই।
নিজের মৃত্যুর জন্য আমার কোন আক্ষেপ নেই।
আমারতো বরং সৌভাগ্য যে আল্লাহর রাস্তায় আমার জীবনের সমাপ্তি হতে যাচ্ছে।
আগামীকালের ইতিহাস প্রমাণ করবে যে,
ইখওয়ানুল মুসলেমুন সঠিক পথের অনুসারী ছিল,
নাকি এই জালেম শাসকগোষ্ঠীই সঠিক পথে ছিল।"
তার ধারণা সঠিকই ছিল।
এবারে তাকে ফাঁসির রায় শোনানো হয়।
কিন্তু অবাক করা বিষয়,
ফাসির আদেশ শুনে তার অশ্রুসিক্ত ভক্তকূলের উদ্দেশ্য তিনি হাসিমুখে বলেন-
"আলহামদুলিল্লাহ।
আমার কাছে এটা কোন বিষয় নয় যে,
আমি কোথায় মরতে যাচ্ছি এবং কিভাবে যালিমরা আমার মৃত্যুদন্ড দেবে।
আমিতো এতেই সন্তুষ্ট যে,
আমি আল্লাহর একজন অনুগত বান্দা হিসাবে শাহাদতের পেয়ালা পান করতে যাচ্ছি।’’
সর্বশেষ ১৯৬৬ সালের ২৯ আগস্ট আজকের এই দিনে ফাঁসির আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাইয়েদ কুতুবকে শহীদ করা হয়।
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন.....
আজ এই মহান নেতার ৫৩ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী....
শহীদ সাইয়েদ কুতুব
আজ সাইয়েদ কুতুবের শাহাদাৎ বার্ষিকী । ১৯৬৬ সালের ২৯ আগস্ট ভোর রাতে সাইয়েদ কুতুব ও তার দুই সঙ্গীকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। সাইয়েদ হাসিমুখে ফাসির মঞ্চে উঠেন। চারদিকে ভেসে উঠল ফজরের আযান। এমনি এক পবিত্র পরিবেশে কার্যকর করা হলো ইতিহাসের ঘৃণ্যতম আয়োজন, সাইয়েদ কুতুব ও তার সঙ্গীদের ফাঁসি, তাঁরা পৌছে যান তাঁদের প্রিয় প্রভুর সান্নিধ্যে।
১৯৫৪ সালে সর্বপ্রথম তাকে যখন এক মিথ্যা মামলায় রোগাক্রান্ত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে টেনে-হিচড়ে কারাগারে প্রেরণ করে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।
পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার শর্তে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাবের জবাবে সাইয়েদ বলেন-
‘আমি এ প্রস্তাব শুনে অত্যন্ত আশ্চার্যান্বিত হচ্ছি যে, মজলুমকে জালিমের নিকট ক্ষমার আবেদন জানাতে বলা হচ্ছে।
খোদার কসম।
যদি ক্ষমা প্রার্থনার কয়েকটি শব্দ আমাকে ফাঁসি থেকেও রেহাই দিতে পারে,
তবুও আমি এরূপ শব্দ উচ্চারণ করতে রাজি নই।
আমি আল্লাহর দরবারে এমন অবস্থায় হাজির হতে চাই যে, আমি তাঁর প্রতি এবং তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট।
এভাবে বারবার তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন এবং জবাবে বলেন-
‘‘যদি আমাকে যথার্থই অপরাধের জন্য কারারুদ্ধ করা হয়ে থাকে,
তাহলে আমি এতে সন্তুষ্ট আছি।
আর যদি বাতিল শক্তি আমাকে অন্যায়ভাবে বন্দী করে থাকে,
তাহলে আমি কিছুতেই বাতিলের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবো না।’’
সর্বশেষ তাকে ক্ষমা চেয়ে মুক্তি প্রাপ্তি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হলে জবাবে তিনি বলেন-
‘আমি দুঃখিত।
মন্ত্রিত্ব গ্রহণ আমার পক্ষে সে সময় পর্যন্ত সম্ভব নয়,
যতক্ষণ না পর্যন্ত মিসরের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে ইসলামী ছাঁচে ঢেরে সাজাবার এখতিয়ার দেয়া না হবে।’’
১৯৫৪ থেকে ১৯৬৪ সাল, একটানা ১০ বছর সশ্রম কারাভোগের পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
কিন্তু বছর যেতে না যেতেই ১৯৬৫ সালে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।
এবারে তিনি তার গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখে বলেন-
"আমি জানি জালেমরা এবার আমার মাথাই চায়।
তাতে আমার কোন দুঃখ নেই।
নিজের মৃত্যুর জন্য আমার কোন আক্ষেপ নেই।
আমারতো বরং সৌভাগ্য যে আল্লাহর রাস্তায় আমার জীবনের সমাপ্তি হতে যাচ্ছে।
আগামীকালের ইতিহাস প্রমাণ করবে যে,
ইখওয়ানুল মুসলেমুন সঠিক পথের অনুসারী ছিল,
নাকি এই জালেম শাসকগোষ্ঠীই সঠিক পথে ছিল।"
তার ধারণা সঠিকই ছিল।
এবারে তাকে ফাঁসির রায় শোনানো হয়।
কিন্তু অবাক করা বিষয়,
ফাসির আদেশ শুনে তার অশ্রুসিক্ত ভক্তকূলের উদ্দেশ্য তিনি হাসিমুখে বলেন-
"আলহামদুলিল্লাহ।
আমার কাছে এটা কোন বিষয় নয় যে,
আমি কোথায় মরতে যাচ্ছি এবং কিভাবে যালিমরা আমার মৃত্যুদন্ড দেবে।
আমিতো এতেই সন্তুষ্ট যে,
আমি আল্লাহর একজন অনুগত বান্দা হিসাবে শাহাদতের পেয়ালা পান করতে যাচ্ছি।’’
সর্বশেষ ১৯৬৬ সালের ২৯ আগস্ট আজকের এই দিনে ফাঁসির আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাইয়েদ কুতুবকে শহীদ করা হয়।
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন.....
আজ এই মহান নেতার ৫৩ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী....
শহীদ সাইয়েদ কুতুব
Reviewed by pencil71
on
August 29, 2019
Rating:
Reviewed by pencil71
on
August 29, 2019
Rating:

No comments: