Technology

test

শাইখ ইউসুফ আল ক্বারাদাওয়ী

শাইখ ইউসুফ আল ক্বারাদাওয়ীকে যেমন দেখেছি।
পর্ব-৩
বিচারপতি মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী

আমরা ড. ক্বারাদাওয়ীর কাজে নতুন সুফল দানকারী দৃষ্টান্তের অভাব দেখি না। প্রায়শই তিনি তাঁর লেখার ক্ষেত্রে এমন বিষয় নির্বাচন করেন যেগুলোর ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বে কোন লেখকই দৃষ্টিপাত করেননি। উদাহরণস্বরুপ তাঁর লিখিত “অগ্রাধিকারের ফিকহ” (On the Fiqh of Priorities) বিবেচনা করুন। এতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি ইসলামী মূলনীতির বিষয়ে আলোচনা করেছেন যা অনেকেই এড়িয়ে গিয়েছেন, এমনকি ইসলামী পন্ডিত আর দা’ঈরাও। এটি এড়িয়ে যাওয়ার ফলে মুসলমানদের মাঝে বিরাট ফিতনা সৃষ্টি হয়েছে এবং তা স্বত্বেও কোন লেখকই এই বিষয়ের ওপর স্বাধীন কোনো কাজ করেননি।
যখন কোন ব্যক্তি এ ধরণের কোনো বই পড়েন, তাঁর মনে হতে থাকে লেখক এমন বিষয়ে চিন্তাধারা ব্যক্ত করছেন যা আলেমদের মনে দীর্ঘদিন সুপ্তাবস্থায় বিরাজ করছিল। লেখক যেন এ বিষয়টিকে একটি ভাষা দিয়েছেন এবং এটিকে এমনভাবে সংকলন করেছেন ও যথার্থতা দান করেছেন যাতে এর উপকার আরো বেশি সার্বজনীন হয়ে উঠেছে।
অনেক সময়ই তিনি পুরনো একটি বিষয়কে বেছে নেন কিন্তু এটিকে নতুন দৃষ্টিভংগি দিয়ে যাচাই করেন এবং অভিনব উপায়ে বিষয়টি অধ্যয়ন করেন। উদাহরণস্বরুপ তাঁর লিখিত “সুন্নাহ: জ্ঞান এবং সভ্যতার উৎস” বইটি বিবেচনা করুন। এই বইয়ে তিনি রাসুল সা. এর সুন্নাহসমূহের মূল্যবান সংকলন করেছেন; সুন্নাহর কিতাব ও অনুচ্ছেদসমূহ থেকে বিভিন্ন মূল্যবান বিষয় তুলে এনেছেন এবং এগুলোকে নতুন শিরোনামের অধীনে এমনভাবে সাজিয়েছেন যাতে আমাদের সামনে এটি পরিষ্কার হয়ে উঠে যে রাসুল সা. এর সুন্নাহ আমাদের জীবনের সমস্ত বিষয়ের জন্যই আদর্শ, এমনকি  আধুনিক সভ্যতার সাথে সম্পৃক্ত বিষয়াদির ক্ষেত্রেও।
এতে কোন সন্দেহ নেই যে ইসলামী ফিক্বহের একজন নগন্য ছাত্র হিসেবে আমি ড. ক্বারাদাওয়ীর বইগুলো থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছি এবং তাঁর অধিকাংশ কাজের প্রতি আমার চরম বিস্ময় রয়েছে। তবে কিছু কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে তিনি যে সিদ্ধান্ত টেনেছেন তার সাথে আমি একমত নই। কিন্তু এই ধরণের মতপার্থক্য (ইখতিলাফ) ইজতিহাদী বিচারে স্বাভাবিক যা কখনোই কোন লেখককে বিচার করার জন্য [একমাত্র] ভিত্তি হতে পারে না যতক্ষণ পর্যন্ত না আলেমরা এরূপ মতব্যক্তকারী ব্যক্তিকে বুদ্ধিবৃত্তিক অথবা দ্বীনের ক্ষেত্রে দুর্বল সাব্যস্ত করেন অথবা এই ইখতিলাফ জ্ঞান ও দাওয়ার ক্ষেত্রে এইসব বইয়ের গুরুত্ব ও মূল্য বিন্দুমাত্র না কমায়।
প্রকৃতপক্ষে, ড. ক্বারাদাওয়ী ইসলামী সাহিত্য সম্ভারকে সমৃদ্ধ করেছেন যা গবেষকদের তৃষ্ণা মিটিয়েছে, ইসলামের দাঈ ও তালেবে ইলমদের প্রয়োজন পূরণ করেছে এবং চিন্তাশীলদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তাই দোয়া করি আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা যেন তাঁকে উত্তম প্রতিদান দেন এবং উদারভাবে তাঁকে পুরস্কৃত করেন।
অতঃপর এ কথা বলতেই হয় যে, পূর্বে উল্লিখিত বই ও কাজগুলো দ্বারা আমি যতটা প্রভাবিত হয়েছি তার চাইতেও অনেক বেশি প্রভাবিত হয়েছি ড.   দ্বারা।
দূর্ভাগ্যবশত আজকের দিনে দেখা যায়, যে সমস্ত ব্যক্তি তাদের লিখনিতে উঁচুমাত্রার চিন্তাধারা তুলে আনেন এবং তাদের বক্তৃতা ও লেকচারসমূহে উৎকৃষ্ট মানের তত্ত্ব বর্ণনা করেন প্রায়শ তারা ব্যক্তিগত জীবনে সাধারণ মানুষের পর্যায়েও পৌছাতে পারেন না; এমনকি মাঝে মাঝে তাদের চাইতেও নিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করেন।
আর ড. ইউসুফ আল ক্বারাদাওয়ীর কথা বলতে গেলে, আল্লাহ আমাকে অনেকবার তাঁর সাথে একত্রে সফর করার ও সাথে থাকার এবং ধারাবাহিক ও দীর্ঘ বৈঠকে তাঁর সাথে বসার ও কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে আমি তাঁর ব্যক্তিত্বে অনুসরণীয় ইসলামী গুণাবলীর প্রতিফলন দেখেছি কেননা একজন মুসলিম হওয়ার পূর্বে তিনি একজন মানুষ, একজন দাঈ হওয়ার আগে তিনি একজন পরহেজগার মুসলিম এবং একজন আলেম ও ফকীহ হওয়ার পূর্বে তিনি একজন দাঈ।
আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা তাঁর নেক হায়াত দীর্ঘায়িত করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য তাঁকে একটি সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করুন এবং তাঁর খেদমত দ্বারা আল্লাহর বান্দা ও জমিনকে  রহম করুন।
শুরু এবং শেষ সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা জানাই।



শাইখ ইউসুফ আল ক্বারাদাওয়ী শাইখ ইউসুফ আল ক্বারাদাওয়ী Reviewed by pencil71 on August 22, 2019 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.