ইউরোপীয় উপনিবেশবাদ এবং আধুনিক মুসলিম রাষ্ট্রের উত্থান
পর্ব-৬
মালয় বিশ্বে এই প্রক্রিয়াটি মালয়েশিয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ান পরিচয়ের মধ্যে এবং মুসলিম মালয় ও অমুসলিম মালয় পরিচয়ের মধ্যেও দুরত্ব সৃষ্টি করতে বাধ্য করে। ব্রিটিশ মালায়া এবং ডাচ ইন্ডিজের আমলা এবং রাজনীতিবিদরা নিজ নিজ ব্রিটিশ ও ডাচ দখলকৃত অঞ্চলগুলির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও ধর্মীয় বিভিন্নতাগুলোকে তাদের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্র হিসেবে দেখেছেন। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মালয় অংশ, অথবা থাইল্যান্ডের একটি মুসলিম-পাত্তানি অঞ্চল এবং ফিলিপাইনের মিন্দানাওকে ঘিরে এবং উভয়ের অমুসলিম ও অমালয় অংশকে বাদ দিয়ে একটি মালয় অঞ্চলের সম্ভাবনা একটি অকার্যকর ধারণায় পরিণত হয়েছে। ঔপনিবেশিকতার সীমানা এবং ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা যা এর ফলে সৃষ্ট তা ভবিষ্যত রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বরূপ নির্ধারণ করে। একটি ঐক্যবদ্ধ ইসলামী মালয় আবির্ভূত হয়নি কারণ এর লোকেরা বিভিন্ন ঔপনিবেশিক শক্তি দ্বারা শাসিত ছিল। অন্যদিকে, বোর্নিও এবং অল্প সময়ের জন্য সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়ার অংশ হয়েছিল কারণ এরা সবাই একই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসন দ্বারা শাসিত হয়েছে। ঔপনিবেশিকতা এইভাবে স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য ধারণার বিপরীতে রাষ্ট্রসমূহের সীমানা এবং এদের বাস্তবতাকে নির্ধারণ করতে সাহায্য করেছে।
নতুন রাষ্ট্রগুলো প্রায়শ বিদ্যমান জাতিতাত্ত্বিক পরিচিতি বা সাদৃশ্য যেমন ‘ইরাকী’ বা ‘সিরিয়’ ইত্যাদি পরিচিতিকে আত্মীকরণ করে। আবার অনেক সময় নতুন জাতীয়তা আবিষ্কার করে, যেমন জর্দান ও মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে যা হয়েছে। এটা করার উদ্দেশ্য জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৃষ্টি করা যা রাষ্ট্র গঠনকে শক্তিশালী করবে। এই প্রক্রিয়াটি প্রতিযোগী সংখ্যালঘুদের জাতিগত পরিচয় চাপা দেয় এবং সেগুলোকে জাতীয়তাবাদী আদর্শে উন্নীত হতে বাধা দেয়। ইরান, ইরাক ও তুরষ্ক কুর্দি পরিচয়টি জাতীয়াতাবাদে পরিণত হতে যেন না পারে তার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। ইরান কুর্দিদেরকে ইরানী পরিচয়ের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছে, তুরষ্ক তাদেরকে “মাউন্টেন তুর্কি" হিসাবে চিত্রিত করেছে। রাষ্ট্র গঠন নিয়ে পরীক্ষাগুলোর সফলতা নির্ভর করেছে জাতীয় চেতনার বিকাশ কতটুকু সফল ছিল তার উপর। এটি আবার জাতীয়তাবাদ গঠনের ভিত্তি জাতিতাত্ত্বিক পরিচয়ের শক্তির ওপর নির্ভরশীল। সময়ের সাথে সাথে জাতিগত ও সীমানার সংজ্ঞায়নই জাতীয় পরিচিতি গঠনের সীমারেখা তৈরি করে, তারা শিকড় বিস্তার করে এবং ইতিহাস জুড়ে ঐক্যবদ্ধ মুসলিম বিশ্বের স্মৃতিকে ছাপিয়ে ধর্মনিরেপেক্ষ ও শক্তিশালী রাজনৈতিক চেতনা সৃষ্টি করে। ঔপনিবেশিক শক্তি সম্ভবত আঞ্চলিক সীমানা যে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে তা চায়নি, কিন্তু বাস্তবে এই সীমানাগুলোই ভবিষ্যত রাষ্ট্র গঠনের সাথে এটে গেছে ।
ইউরোপীয় উপনিবেশবাদ এবং আধুনিক মুসলিম রাষ্ট্রের উত্থান
Reviewed by pencil71
on
August 22, 2019
Rating:
Reviewed by pencil71
on
August 22, 2019
Rating:

No comments: