ধৈয্যের মাধ্যমেই মুক্তি মেলে
মেসবাহ উদ্দিন; ১৩-০৩-২০১৮ইং
#অনুবাদ:
হযরত খাব্বাব ইব্ন আরাত (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল (সা.) এর নিকটে গেলাম তখন তিনি ক্বাবা শরীফের ছায়ায় বসে আরাম করছিলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.) আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবেন না এবং দোয়া করবেন না? (আমরাতো মার খেতে খেতে শেষ হয়ে গেলাম)। আমাদের কথা শুনে রাসূল (সা.) বললেন, তোমাদের আগে যারা এই পৃথিবীতে দ্বীনের দা‘ওয়াত দিতে এসেছিল তাদেরকে (সমাজ শক্তি-রাষ্ট্র শক্তি) ধরত, তাদের জন্য জমিনে গর্ত খনন করা হত, এরপর সে গর্তে তাদেরকে গেড়ে দিত, এরপর করাত আনা হত, সে করাত তার মাথার উপরে রাখা হত, এরপর করাত চালিয়ে জিবিত মানুষটাকে চিরে দ্বিখ-িত করে ফেলা হত। এর পরেও তাদেরকে একচুলও আল্লাহর দ্বীন থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। কোন কোন ক্ষেত্রে লোহার চিরুনী দিয়ে তাদের শরীরের হাড় থেকে মাংস আলাদা করে ফেলা হত, এর পরেও তাদেরকে দ্বীন থেকে সারানো সম্ভব হয়নি। (ও খাব্বাব শোন!) আমি আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, এমন এক সময় আসবে যখন সানা থেকে হাদরামাউত পর্যন্ত মানুষ চলবে, এ মানুষ গুলোর মনের মধ্যে আল্লাহর ভয় ছাড়া আর কোন ভয় থাকবে না। আর মেষ পালের জন্য বাঘের ভয় ছাড়া কোন ভয় থাকবে না। বরং তোমরা বড্ড তাড়াহুড়ো করছ। (সহীহ আল-বুখারী)
#রাবী পরিচিতি;
নাম খাব্বাব, পিতা আরাত। তিনি ছিলেন বনু তামিমের সন্তান। অন্য এক গোত্রের আক্রমণে তাঁর গোত্রটি পরাজিত হয়। আক্রমণকারীরা সকল পুরুষদেরকে হত্যা করে এবং নারী ও ছোট ছেলে-মেয়েদেরকে দাসে পরিণত করে। খাব্বাব (রা.) ছিলেন ছোটদের একজন।
হাত বদল হয়ে তিনি পৌঁছেন মক্কার বাজারে। বনু খুজায়া’র উম্মু আন্মার নামের এক মহিলা তাঁকে ক্রয় করে। উম্মু আন্মার তাঁকে কর্মকারের কাজে নিয়োজিত করে। তিনি কয়লার মধ্যে লোহা গলিয়ে ঢাল, তলোয়ার ও বর্শা তৈরির কাজ করতেন। তিনি ছিলেন একজন সৎ ও কর্মঠ তরুণ।
মুহাম্মাদ (সা.) নামক এক ব্যক্তি নতুন দ্বীন প্রচার করছেন জানতে পেরে যুবক খাব্বাব (রা.) মুহাম্মাদুর রাসূল (সা.) এর কাছে গেলেন, তাঁর মুখে আল কুরআনের বাণী শুনে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। হযরত খাব্বাব (রা.) প্রথম পাঁচ ছয়জনের পরেই ইসলাম গ্রহন করেন ।
হযরত ওমর (রা.) এর খিলাফতের সময় তিনি খাব্বাব (রা.) এর উপর নির্যাতনের বিস্তারিত জানতে চাইলে হযরত খাব্বাব (রা.) বলেন, ‘আমার কোমরের প্রতি লক্ষ্য করুন।’ হযরত ওমর (রা.) তাঁর কোমর দেখে বলেন, ‘হায় একি অবস্থা!’ তখন খাব্বাব (রা.) বলেন, ‘আমাকে জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর শুইয়ে ধরে রাখা হত, ফলে আমার চর্বি এবং রক্ত প্রবাহিত হয়ে আগুন নিভে যেত।
মাত্র ৩৬ বছর বয়সে হযরত খাব্বাব (রা.) এর মৃত্যু হয় এবং সাহাবাদের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনিই কুফায় কবরস্থ হন।
#প্রেক্ষাপট;
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা সূরা হিজর এর ৯৫নং আয়াতে রাসূল (সা.) কে উদ্দেশ্য করে বলেন-
“সুতরাং তোমাকে যে আদেশ দেয়া হয়েছে, তা ব্যাপকভাবে প্রচার কর এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।” (সূরা হিজর, ৯৫)
একদিন রাসূল (সা.) সাফায় উঠলেন এবং সবাইকে আহবান করলেন, কুরাইশগণ সেখানে একত্রিত হলো এবং বললো, হে মুহাম্মদ (সা.) তোমার কি হয়েছে? রাসূল (সা.) বললেন, আমি যদি বলি পাহাড়ের বিপরিতে তোমাদের শত্রু লুকিয়ে আছে তোমরা কি বিশ্বাস করবে? তারা সবাই বললো, অবশ্যই বিশ্বাস করব। রাসূল (সা.) বললেন, আমি তোমাদেরকে কঠিন আযাব থেকে সতর্ক করছি। এ কথা শুনে আবু লাহাব বলল, ধ্বংস হও তুমি, এ কথা বলার জন্য আমাদেরকে একত্রিত করেছ।” (সহীহ আল-বুখারী)
রাসূল (সা.) কে শি’বে আবি তালিবে বন্দি জীবন-যাপন করতে হলো, সুমাইয়া, খুবাইব, আম্মারসহ বেশকিছু সাহাবীকে শহীদ করা হলো। বেলাল, খাব্বাবের মত সাহাবীদের প্রতি যুলুম-নির্যাতনের মাত্রা চরম সীমায় পৌঁছে গেল এ সময় একদিন হযরত খাব্বাব ইবনে আরাত (রা.) রাসূল (সা.) এর নিকট গেলেন, রাসূল (সা.) তখন ক্বাবা শরীফের ছায়ায় বসেছিলেন। হযরত খাব্বাব (রা.) বললেন-
“হে আল্লাহর রাসূল (সা.) আপনি কি আমাদের জন্য সাহায্য চাইবেন না, আমাদের জন্য দোয়া করবেন না?” হযরত খাব্বাব (রা.) এর প্রশ্নের জবাবে রাসূল (সা.) উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন।
মেসবাহ উদ্দিন; ১৩-০৩-২০১৮ইং
#অনুবাদ:
হযরত খাব্বাব ইব্ন আরাত (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল (সা.) এর নিকটে গেলাম তখন তিনি ক্বাবা শরীফের ছায়ায় বসে আরাম করছিলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.) আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবেন না এবং দোয়া করবেন না? (আমরাতো মার খেতে খেতে শেষ হয়ে গেলাম)। আমাদের কথা শুনে রাসূল (সা.) বললেন, তোমাদের আগে যারা এই পৃথিবীতে দ্বীনের দা‘ওয়াত দিতে এসেছিল তাদেরকে (সমাজ শক্তি-রাষ্ট্র শক্তি) ধরত, তাদের জন্য জমিনে গর্ত খনন করা হত, এরপর সে গর্তে তাদেরকে গেড়ে দিত, এরপর করাত আনা হত, সে করাত তার মাথার উপরে রাখা হত, এরপর করাত চালিয়ে জিবিত মানুষটাকে চিরে দ্বিখ-িত করে ফেলা হত। এর পরেও তাদেরকে একচুলও আল্লাহর দ্বীন থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। কোন কোন ক্ষেত্রে লোহার চিরুনী দিয়ে তাদের শরীরের হাড় থেকে মাংস আলাদা করে ফেলা হত, এর পরেও তাদেরকে দ্বীন থেকে সারানো সম্ভব হয়নি। (ও খাব্বাব শোন!) আমি আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, এমন এক সময় আসবে যখন সানা থেকে হাদরামাউত পর্যন্ত মানুষ চলবে, এ মানুষ গুলোর মনের মধ্যে আল্লাহর ভয় ছাড়া আর কোন ভয় থাকবে না। আর মেষ পালের জন্য বাঘের ভয় ছাড়া কোন ভয় থাকবে না। বরং তোমরা বড্ড তাড়াহুড়ো করছ। (সহীহ আল-বুখারী)
#রাবী পরিচিতি;
নাম খাব্বাব, পিতা আরাত। তিনি ছিলেন বনু তামিমের সন্তান। অন্য এক গোত্রের আক্রমণে তাঁর গোত্রটি পরাজিত হয়। আক্রমণকারীরা সকল পুরুষদেরকে হত্যা করে এবং নারী ও ছোট ছেলে-মেয়েদেরকে দাসে পরিণত করে। খাব্বাব (রা.) ছিলেন ছোটদের একজন।
হাত বদল হয়ে তিনি পৌঁছেন মক্কার বাজারে। বনু খুজায়া’র উম্মু আন্মার নামের এক মহিলা তাঁকে ক্রয় করে। উম্মু আন্মার তাঁকে কর্মকারের কাজে নিয়োজিত করে। তিনি কয়লার মধ্যে লোহা গলিয়ে ঢাল, তলোয়ার ও বর্শা তৈরির কাজ করতেন। তিনি ছিলেন একজন সৎ ও কর্মঠ তরুণ।
মুহাম্মাদ (সা.) নামক এক ব্যক্তি নতুন দ্বীন প্রচার করছেন জানতে পেরে যুবক খাব্বাব (রা.) মুহাম্মাদুর রাসূল (সা.) এর কাছে গেলেন, তাঁর মুখে আল কুরআনের বাণী শুনে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। হযরত খাব্বাব (রা.) প্রথম পাঁচ ছয়জনের পরেই ইসলাম গ্রহন করেন ।
হযরত ওমর (রা.) এর খিলাফতের সময় তিনি খাব্বাব (রা.) এর উপর নির্যাতনের বিস্তারিত জানতে চাইলে হযরত খাব্বাব (রা.) বলেন, ‘আমার কোমরের প্রতি লক্ষ্য করুন।’ হযরত ওমর (রা.) তাঁর কোমর দেখে বলেন, ‘হায় একি অবস্থা!’ তখন খাব্বাব (রা.) বলেন, ‘আমাকে জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর শুইয়ে ধরে রাখা হত, ফলে আমার চর্বি এবং রক্ত প্রবাহিত হয়ে আগুন নিভে যেত।
মাত্র ৩৬ বছর বয়সে হযরত খাব্বাব (রা.) এর মৃত্যু হয় এবং সাহাবাদের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনিই কুফায় কবরস্থ হন।
#প্রেক্ষাপট;
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা সূরা হিজর এর ৯৫নং আয়াতে রাসূল (সা.) কে উদ্দেশ্য করে বলেন-
“সুতরাং তোমাকে যে আদেশ দেয়া হয়েছে, তা ব্যাপকভাবে প্রচার কর এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।” (সূরা হিজর, ৯৫)
একদিন রাসূল (সা.) সাফায় উঠলেন এবং সবাইকে আহবান করলেন, কুরাইশগণ সেখানে একত্রিত হলো এবং বললো, হে মুহাম্মদ (সা.) তোমার কি হয়েছে? রাসূল (সা.) বললেন, আমি যদি বলি পাহাড়ের বিপরিতে তোমাদের শত্রু লুকিয়ে আছে তোমরা কি বিশ্বাস করবে? তারা সবাই বললো, অবশ্যই বিশ্বাস করব। রাসূল (সা.) বললেন, আমি তোমাদেরকে কঠিন আযাব থেকে সতর্ক করছি। এ কথা শুনে আবু লাহাব বলল, ধ্বংস হও তুমি, এ কথা বলার জন্য আমাদেরকে একত্রিত করেছ।” (সহীহ আল-বুখারী)
রাসূল (সা.) কে শি’বে আবি তালিবে বন্দি জীবন-যাপন করতে হলো, সুমাইয়া, খুবাইব, আম্মারসহ বেশকিছু সাহাবীকে শহীদ করা হলো। বেলাল, খাব্বাবের মত সাহাবীদের প্রতি যুলুম-নির্যাতনের মাত্রা চরম সীমায় পৌঁছে গেল এ সময় একদিন হযরত খাব্বাব ইবনে আরাত (রা.) রাসূল (সা.) এর নিকট গেলেন, রাসূল (সা.) তখন ক্বাবা শরীফের ছায়ায় বসেছিলেন। হযরত খাব্বাব (রা.) বললেন-
“হে আল্লাহর রাসূল (সা.) আপনি কি আমাদের জন্য সাহায্য চাইবেন না, আমাদের জন্য দোয়া করবেন না?” হযরত খাব্বাব (রা.) এর প্রশ্নের জবাবে রাসূল (সা.) উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন।
#আলোচ্য হাদীসে ব্যাখ্যা;
হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যত নবী-রাসূল এবং তাঁদের উত্তরসূরী এই পৃথিবীতে দ্বীনে হকের দাওয়াত দিয়েছেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন তাদের বিরুদ্ধেই ইসলাম বিরোধী শক্তি শত্রুতা করেছে।
যারা ইসলামী আন্দোলনের কাজ করবে, জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহতে অংশগ্রহণ করবে, দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশগ্রহণ করবে তাদের বিরুদ্ধে শত্রুতা হবে, যুলুম-নির্যাতন হবে, তাদেরকে শহীদ করা হবে, ঘর-বাড়ী থেকে বিতাড়িত করা হবে। নির্যাতনের মাত্রার সীমা ছাড়িয়ে গেলেও দ্বীনে হকের উপর তারা টিকে থাকবে। রাসূল (সা.) ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের উপর যুলুম-নির্যাতনের অতীত ইতিহাস তুলেধরে হযরত খাব্বাব (রা.) কে সে কথায় বলেছেন-
হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যত নবী-রাসূল এবং তাঁদের উত্তরসূরী এই পৃথিবীতে দ্বীনে হকের দাওয়াত দিয়েছেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন তাদের বিরুদ্ধেই ইসলাম বিরোধী শক্তি শত্রুতা করেছে।
যারা ইসলামী আন্দোলনের কাজ করবে, জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহতে অংশগ্রহণ করবে, দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশগ্রহণ করবে তাদের বিরুদ্ধে শত্রুতা হবে, যুলুম-নির্যাতন হবে, তাদেরকে শহীদ করা হবে, ঘর-বাড়ী থেকে বিতাড়িত করা হবে। নির্যাতনের মাত্রার সীমা ছাড়িয়ে গেলেও দ্বীনে হকের উপর তারা টিকে থাকবে। রাসূল (সা.) ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের উপর যুলুম-নির্যাতনের অতীত ইতিহাস তুলেধরে হযরত খাব্বাব (রা.) কে সে কথায় বলেছেন-
তোমাদের আগে যারা এই পৃথিবীতে দ্বীনের দা‘ওয়াত দিতে এসেছিল তাদেরকে সমাজ শক্তি-রাষ্ট্র শাক্তি ধরত, তাদের জন্য জমিনে গর্ত খনন করা হত, সে গর্তে তাদেরকে গেড়ে দিত, এরপর করাত আনা হত, সে করাত তার মাথার উপরে রাখা হত, এরপর করাত চালিয়ে জিবিত মানুষটাকে চিরে দ্বিখ-িত করে ফেলা হত। এর পরেও তাদেরকে একচুলও আল্লাহর দ্বীন থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। কোন কোন ক্ষেত্রে লোহার চিরুনী দিয়ে তাদের শরীরের হাড় থেকে মাংস আলাদা করে ফেলা হত, এর পরেও তাদেরকে দ্বীন থেকে সারানো সম্ভব হয়নি।”
আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে পরীক্ষা করার মাধ্যমে জেনে নেন ঈমানের দাবিতে কারা সত্যবাদী আর কারা মিথ্যাবাদী। আল-কুরআনে বার্ণিত হয়েছে-
“মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আর আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদের পরীক্ষা করেছি। ফলে আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন, কারা সত্যবাদী এবং তিনি এটাও জেনে নেবেন, কারা মিথ্যাবাদী।” (সূরা আনকাবুত, ২-৩)
ষঢ়যন্ত্রকারীরা সব সময় ষঢ়যন্ত্র করবে, ঈমানদারদের শহীদ করবে, ক্ষতি সাধন করবে কিন্তু তারা বিজয়ী হতে পারবে না। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দ্বীনের আলোকে জ্বালিয়ে রাখবেন।
আল্লাহ বলেন-
“তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতাদানকারী। যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।” (সূরা আস-সফ, ৮)
আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধচারণ করার কারণে এই ফিরাউনকে আল্লাহ তা‘আলা চরম শিক্ষা দিলেন। মিসরের নীল দরিয়ার মাঝে তাকে ও তার পারিষদবর্গকে সলিল সমাধি করলেন।
যুগে যুগে যারা ইসলামের বিরুদ্ধে ষঢ়যন্ত্র করেছে, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের উপর যুলুম-নির্যাতন করেছে আল্লাহ তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিয়েছেন। কালের সাক্ষী হিসেবে আজো তা পৃথিবীতে বিদ্যমান রয়েছে।
এই বিপদ-আপদ, যুলুম-নির্যাতনের মাঝেও যারা ধৈর্য অবলম্বন করবে, দ্বীনে হকের উপর টিকে থাকবে, জান-মাল দিয়ে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহতে অংশগ্রহণ করবে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে উত্তম প্রতিদান দিবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
“তোমরা আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তোমরা তোমাদের ধন, সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। আর তোমাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত এবং চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহে উত্তম আবাসগুলোতেও (প্রবেশ করাবেন)। এটাই মহাসাফল্য। এবং আরো একটি (অর্জন) যা তোমরা খুব পছন্দ কর। (অর্থাৎ) আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও নিকটবর্তী বিজয়। আর মু’মিনদেরকে তুমি সুসংবাদ দাও।” (সূরা আস-সফ, ১১-১৩)
রাসূল (সা.) হযরত খাব্বাব (রা.) কে সেই সুসংবাদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, খাব্বাব এ রাস্তায় মার খাও, শহীদ হও, যুলুম-নির্যাতনে ধৈর্য অবলম্বন করে দৃঢ়তার সাথে ইসলামের পথে টিকে থাক তাহলে খুব তাড়াতাড়ি তোমরা আল্লাহর সাহায্যে বিজয় অর্জন করবে।
আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে পরীক্ষা করার মাধ্যমে জেনে নেন ঈমানের দাবিতে কারা সত্যবাদী আর কারা মিথ্যাবাদী। আল-কুরআনে বার্ণিত হয়েছে-
“মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আর আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদের পরীক্ষা করেছি। ফলে আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন, কারা সত্যবাদী এবং তিনি এটাও জেনে নেবেন, কারা মিথ্যাবাদী।” (সূরা আনকাবুত, ২-৩)
ষঢ়যন্ত্রকারীরা সব সময় ষঢ়যন্ত্র করবে, ঈমানদারদের শহীদ করবে, ক্ষতি সাধন করবে কিন্তু তারা বিজয়ী হতে পারবে না। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দ্বীনের আলোকে জ্বালিয়ে রাখবেন।
আল্লাহ বলেন-
“তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতাদানকারী। যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।” (সূরা আস-সফ, ৮)
আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধচারণ করার কারণে এই ফিরাউনকে আল্লাহ তা‘আলা চরম শিক্ষা দিলেন। মিসরের নীল দরিয়ার মাঝে তাকে ও তার পারিষদবর্গকে সলিল সমাধি করলেন।
যুগে যুগে যারা ইসলামের বিরুদ্ধে ষঢ়যন্ত্র করেছে, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের উপর যুলুম-নির্যাতন করেছে আল্লাহ তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিয়েছেন। কালের সাক্ষী হিসেবে আজো তা পৃথিবীতে বিদ্যমান রয়েছে।
এই বিপদ-আপদ, যুলুম-নির্যাতনের মাঝেও যারা ধৈর্য অবলম্বন করবে, দ্বীনে হকের উপর টিকে থাকবে, জান-মাল দিয়ে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহতে অংশগ্রহণ করবে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে উত্তম প্রতিদান দিবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
“তোমরা আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তোমরা তোমাদের ধন, সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। আর তোমাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত এবং চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহে উত্তম আবাসগুলোতেও (প্রবেশ করাবেন)। এটাই মহাসাফল্য। এবং আরো একটি (অর্জন) যা তোমরা খুব পছন্দ কর। (অর্থাৎ) আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও নিকটবর্তী বিজয়। আর মু’মিনদেরকে তুমি সুসংবাদ দাও।” (সূরা আস-সফ, ১১-১৩)
রাসূল (সা.) হযরত খাব্বাব (রা.) কে সেই সুসংবাদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, খাব্বাব এ রাস্তায় মার খাও, শহীদ হও, যুলুম-নির্যাতনে ধৈর্য অবলম্বন করে দৃঢ়তার সাথে ইসলামের পথে টিকে থাক তাহলে খুব তাড়াতাড়ি তোমরা আল্লাহর সাহায্যে বিজয় অর্জন করবে।
#উপরিউক্ত হাদীস থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা হচ্ছে ইসলামী আন্দোলনের কাজ করতে গেলে বিপদ-মুসিবত, যুলুম-নির্যাতন আসবে। এ অবস্থায় আল্লাহর পথে দৃঢ়তার সাথে টিকে থাকতে হবে, ধৈর্য অবলম্বন করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে তিনি যেন আমাদেরকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করেন। আমীন।
দারসূল হাদিস; ধৈয্যের মাধ্যমেই মুক্তি মেলে-Pencil71
Reviewed by pencil71
on
March 13, 2018
Rating:
No comments: