১. স্বপ্নের বাংলা: আপনি গত মার্চে আমাদের জানিয়েছিলেন আপনি নির্বাচন করবেন না, কিন্তু হঠাৎ পুনরায় নির্বাচনে আসার কারন কি?
ফারজানা পারভীন: আজ নির্বাচন নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে এক অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা ভোটে উৎসাহীত নয়। তাই আমিও হতাশ হই এবং নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিই। যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল আমি নির্বাচন করছি না, তখন আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি সাধারণ মানুষদের আহাযারি। কেউ কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে আমার বাড়ি ভাঙচুরেরও ঘোষণা দিয়েছে। বুঝতে পারলাম আবেগাপ্লুত হয়ে এমনটা বলছে। তাদের একটাই দাবি ছিল আমি যেন নির্বাচন করি। পরবর্তীতে যখন নির্বাচনের একটা সুযোগ তৈরি হলো তারাই আমার জন্য মনোনয়ন ফরম নিয়ে এসেছে। আমি শুধু সিগনেচার করে দিয়েছি।
২. স্বপ্নের বাংলা: করোনাকালীন সময়ে আমরা আপনার ভূমিকার কথা জানতে চাই?
ফারজানা পারভীন: এই সময়ে নিজের সর্বোচ্চ টা দিয়ে চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থাকার। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে রাত বারোটার পর থেকে ভোর পর্যন্ত মানুষের ঘরে ঘরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার নিয়ে ছুটে গিয়েছি। বৃষ্টিতে ভিজেও ছুটে গিয়েছি। চেষ্টা করেছি সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত ফান্ড থেকেও সহযোগিতা করার। আগামীতেও যে কোন দুর্যোগে পাশে থাকবো ইনশাল্লাহ।
৩. স্বপ্নের বাংলা: বিগত ৫ বছর কাউন্সিলর থাকাকালীন আপনি কি কি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করতে পেরেছেন?
ফারজানা পারভীন: আমি বিগত ৫ বছরে বাকলিয়ার রাস্তাঘাট,পুল, কালভার্ট নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ এলাকার উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন এনেছি। আমিই একমাত্র সংরক্ষিত প্রথম নারী কাউন্সিলর হিসেবে রসূলবাগের ব্রীজ তৈরিতে বাজেট পেয়েছি। যার কাজ এখনো চলমান রয়েছে। ২০১৭ সালে দুইটা ছেলে রসূলবাগ খালে পড়ে মারা যায়। তখন সাথে সাথে মেয়রের সহযোগিতায় আমি দেওয়ালের ব্যবস্থা করি। এছাড়া গতানুগতিক কাজ তো সবাই দেখেছে, বিশেষ করে নারীদের অধিকার, পথ শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়াসহ মাদক প্রতিরোধ আমার উল্লেখযোগ্য কাজ। এছাড়াও বিগত ৫ বছরে আমি প্রায় ১৫০ জন মুর্দার গোসল করিয়েছি। এখন পর্যন্ত তিন হাজারের অধিক পারিবারিক বিরোধের মীমাংসা দিয়েছি। এই সকল কাজের ক্রেডিট আমার একার নয়, প্রশাসন,এনজিও ও সামাজিক সংগঠন গুলোরও।
৪. স্বপ্নের বাংলা: বাকলিয়ার কল্যাণে প্রয়োজন ছিল, কিন্তু আপনি পারেননি, তা কি এমন উদ্যোগ?
ফারজানা পারভীন: আমি মনে করি জলাবদ্ধতা হলো এখানকার এখনও অমীমাংসিত সমস্যা। যদিও আগের থেকে অনেকটা উন্নতি হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর সময় পেলে এটি নিয়ে কাজ করবো। আর দ্বিতীয়ত মাদকের বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ ঘোষনা করবো। এতে এলাকার মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গ সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে সাথে পাবো বলে আশা করছি।
৫. স্বপ্নের বাংলা: আর বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?
ফারজানা পারভীন: শিক্ষার হার বাড়াতে এলাকাতে বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করবো। নারী সমাজের জন্যও আমি নানাবিধ হাতের কাজের প্রশিক্ষণ তথা টেকনিক্যাল ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো।
৬. স্বপ্নের বাংলা: কিছুদিন আগে বউ বাজার আহমুদুর রহমান সড়ক এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, এ ক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তায় আপনি একজন নারী হিসেবে কি পদক্ষেপ নিবেন?
ফারজানা পারভীন: এমন ঘটনা প্রতিরোধে সর্বপ্রথম পরিবারকেই সচেতন হতে হবে বলে আমি মনে করি। তাই আমার প্রথম লক্ষ্য থাকবে এলাকায় এলাকায় পারিবারিক সচেতনতা সৃষ্টি করা, সেইসাথে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা হলে ধর্ষণের মতো অপরাধ ৯০ শতাংশ কমে যাবে।
৭. স্বপ্নের বাংলা: স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোতে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়ার নিউজ প্রায়ই দেখা যায়, এখন পর্যন্ত আপনি কোনো বাধার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা?
ফারজানা পারভীন: প্রতি মুহূর্তেই তো বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। তাই আমি আমার নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ রেখেছি। আমি চাইনা আমার প্রচারণায় এসে সাধারন জনগণের কোন ক্ষতি হোক। আমার পোস্টার ছিড়ে পোস্টারের ছবিটি হয়তো মুছতে পারবে, জনগণের ভেতরটা তো আর মুছতে পারবেনা।
৮. স্বপ্নের বাংলা: বাকলিয়া বাসীর প্রতি আপনার কিছু বলার আছে? যদি বলার থাকে সংক্ষিপ্তভাবে বার্তাটি দিন?
ফারজানা পারভীন: আমি আমার প্রাণের স্পন্দন বাকলিয়া বাসীকে বলবো কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার কোনো ইচ্ছেই আমার ছিলনা। আপনাদের অনুরোধ কে সম্মান করেই আসলে আমি প্রার্থী হয়েছি। আপনাদের যেকোনো সিদ্ধান্ত আমি মাথা পেতে নিব। আমি গতবার পান পাতায় নির্বাচন করলেও আমার এবারের মার্কা চশমা। চশমা মার্কায় আপনার মহা মূল্যবান ভোটটি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার সুযোগ দিবেন। কথা দিচ্ছি চব্বিশ ঘন্টা আগের মতোই পাশে পাবেন।
Reviewed by pencil71
on
January 25, 2021
Rating:

No comments: