Technology

test

হামাস: ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনের ভেতর-বাহির

 আরেকটা বিষয় রয়েছে যা হামাসকে এগিয়ে চলতে সহায়তা করছে। তা হলো হামাসের নেতাদের সুনাম, তাদের আত্মত্যাগ, ভালো ব্যবহার, মানবিক আচরণ এবং সততা। এগুলো কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয়; বরং এগুলো হলো দৃষ্টিভঙ্গি, যা ইসলামি মূল্যবোধের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে পালিত হয়। এসব গুণাবলি অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বিশেষ করে ফাতাহর নেতা-কর্মীদের মধ্যে খুব একটা দেখা যেত না।

হামাসের সকল কার্যক্রমের একটি নৈতিক ভিত্তি ছিলো। “এই বিশ্বজগত আল্লাহর। তিনি যাকে ইচ্ছা সম্পদ দেন, ক্ষমতা দেন, আবার যাকে ইচ্ছা তাকে কিছুই দেন না। আর যাকে যতটুকু সুযোগ বা ক্ষমতা দেন, তার জন্য তাকে শেষ বিচারের দিনে জবাবদিহি করতে হবে।’
হামাসের নেতারা এই দৃষ্টিভঙ্গি দৃঢ়ভাবে লালন করতেন। শুধু নেতারা নন; সাধারণ মানের কর্মীরা পর্যন্ত এসব দৃষ্টিভঙ্গি মেনে চলতেনে। তাই তারা সম্পদকে যতটা না উপভোগ্য মনে করতেন, তার চাইতে বোঝা হিসেবেই বেশি বিবেচনা করতেন। হামাস নেতারা বলতেন “বুদ্ধিমান সেই, যে কিনা সম্পদ পেলেও তা নিজে এককভাবে ভোগ না করে বরং অন্যের কল্যাণের জন্য ব্যয় করে। এতে যেমন তার ওপর থেকে বোঝা কমে, ঠিক তেমনি পরকালের হিসেবেও অনেক পুণ্য যোগ হয়।’
গাজায় শেখ ইয়াসিনের ফিরে আসার পর হামাসের নেতারা পরামর্শ করে তার জন্য মার্সিক সম্মানীর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু শেখ ইয়াসিন তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। অনেক জোরাজুরির পর শেষ পর্যন্ত তিনি অল্প কিছু অর্থ নিতে রাজি হন। পরিমাণটা এতই অল্প যে হামাস নেতারা অবাক হন। কিন্তু শেখ ইয়াসিন মনে করেছিলেন, জীবন নির্বাহের জন্য এর চেয়ে বেশি অর্থের তার প্রয়োজন নেই। শেখ ইয়াসিনের এই দৃষ্টান্ত সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীরাই অনুসরণ করেছিলেন। তাই হামাসে কেউ নিছক টাকা উপার্জনের জন্য যোগ দিত না কিংবা হামাসে যোগ দিয়ে ধনী হওয়ার মতো কোনো সুযোগও ছিল না।
হামাস: ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনের ভেতর-বাহির  হামাস: ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনের ভেতর-বাহির Reviewed by pencil71 on September 09, 2020 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.