হাজ্বী শরীয়াতুল্লাহর সঠিক ইতিহাস
ফরায়েজি আন্দোলনের মহানায়ক হাজী শরীয়তুল্লাহ। জন্ম: শামাইল ইউনিয়ন, গ্রাম: বাহাদুরপুর, শিবচর উপজেলা, মাদারীপুর জেলা, ১৭৮১ সাল। মুসলিম পরিবারে তার জন্ম।
★১২ বছর বয়সে কলকাতায় গিয়ে মাওলানা বশারত আলীর কাছে কুরআনের ওপর শিক্ষাগ্রহণ করেন। এরপর হুগলি জেলার ফুরফুরায় দুই বছর এবং মুর্শিদাবাদে এক বছর আরবি ও ফারসি ভাষা অধ্যয়ন করেন। ১৭৯৯ সালে ১৮ বছর বয়সে তার ওস্তাদ মাওলানা বশারত আলীর সাথে গমন করেন মক্কায়। সেখানে আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর কায়রোর বিখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বছর ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। ১৮১৮ সালে আরব দেশ থেকে জন্মস্থানে প্রত্যাবর্তন করেন।

★‘ফরজ’ কথা থেকে তার কর্মপ্রয়াস ‘ফরায়েজি আন্দোলন’ নামে আখ্যায়িত। ১৮২০ সালে দ্বিতীয়বার মক্কায় গমন করেন। সমাজে প্রচলিত শিরক ও বিদয়াতের বিরুদ্ধে প্রচার অভিযান পরিচালনা করেন। এ ছাড়া হিন্দু-জমিদারদের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান, পৈতানুষ্ঠান, রথযাত্রা ও দুর্গাপূজার জন্য কর প্রদান না করতেও শিষ্যদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই আদেশ মতে তার অনুসারীরা এসব কথিত কর দেয়া বন্ধ করলে হিন্দু জমিদার ও তাদের মিত্র অত্যাচারী নীলকুঠিয়ালদের কাছ থেকে বিরোধিতার সম্মুখীন হন। হিন্দু জমিদারেরা ক্রুদ্ধ হয়ে দাড়ির ওপর কর আরোপ করেন। এমনকি তাদের জমিদারিতে গরু জবাই নিষিদ্ধ করে দেন। ফলে জমিদারদের সাথে ফরায়েজিদের তীব্র দ্বন্দ্ব ও সঙ্ঘাত দেখা দেয়।হাজী শরীয়তুল্লাহ অনেকবার অন্যায়ভাবে গ্রেফতার হন।
★ভারতবর্ষ বিধর্মী ঔপনিবেশিক শাসকদের কবলিত হওয়ায় শরীয়তুল্লাহ একে ‘দারুল-হরব’ বলে ঘোষণা দেন। কাজেই এ দেশে জুমা ও ঈদের নামাজ না পড়ার জন্য ফতোয়া জারি করেন। হাজী শরীয়তুল্লাহর এ আন্দোলন পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর, বরিশাল, ঢাকা ও ময়মনসিংহ জেলায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। তিনি শুধু একজন ধর্মীয় সংস্কারক নন, শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠারও দিশারি।
হাজ্বী শরীয়াতুল্লাহর সঠিক ইতিহাস - Pencil71
Reviewed by pencil71
on
February 21, 2018
Rating:
Reviewed by pencil71
on
February 21, 2018
Rating:

No comments: